লিটারে ৪ টাকা বেড়ে সয়াবিন তেলের নতুন দাম ১৯৯ টাকা

নতুন নির্ধারিত দামে বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৯৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৯৯ টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৭৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

দেশে সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৪ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে এ ঘোষণা দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

নতুন নির্ধারিত দামে বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৯৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৯৯ টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৭৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধির প্রভাবেই এই সমন্বয় করা হয়েছে। আমদানিনির্ভর পণ্যের ক্ষেত্রে উৎসে দাম বাড়লে তার প্রভাব দেশীয় বাজারেও পড়ে। সয়াবিন তেল সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধির চাপ স্থানীয় বাজারে প্রতিফলিত হয়েছে।

তিনি আরো জানান, রমজান মাস থেকে আমদানিকারক ও রিফাইনাররা মূল্য সমন্বয়ের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাদের দাবি যাচাই-বাছাই করে এবং আমদানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবিত হারে নয়, সীমিত পরিসরে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, এই সিদ্ধান্তে আমদানিকারকদের লোকসানের চাপ কিছুটা কমবে এবং বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে।

ব্যবসায়ীদের একটি সূত্র জানিয়েছে, নতুন নির্ধারিত দাম ঈদ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এরপর পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার পুনরায় মূল্য সমন্বয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

ভোজ্যতেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ভোজ্যতেল পরিশোধন কারখানামালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল ওয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে এ বিষয়ে ১২ এপ্রিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈঠক হয়েছিল। সেদিন বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘ভোজ্যতেল সংবেদনশীল পণ্য। আমরা ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো শুনেছি। এগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে খুব দ্রুত একটি বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে, যাতে সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা যায়।’

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরবরাহে প্রকৃত সঙ্কটের চেয়ে সিন্ডিকেটের তৎপরতাই বেশি প্রভাব ফেলছে। তাদের মতে, বাজারে দাম বাড়লে দ্রুত তার প্রভাব পড়ে খুচরা পর্যায়ে, কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও দেশের বাজারে তার প্রতিফলন দেখা যায় না।

এদিকে ভোজ্য তেলের বাজারে অস্থিরতার বিষয়ে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন সাংবাদিকদের বলেন, ভোজ্যতেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় বাস্তবে কোনো ঘাটতি নেই। দীর্ঘদিন ধরেই কিছু ব্যবসায়ী বিভিন্ন অজুহাতে দাম বাড়ানোর সুযোগ খুঁজছিলেন, আর বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে তারা সেই সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছেন। তার মতে, দেশে ভোজ্যতেলের দাম বাড়লে দ্রুতই তার প্রভাব সব পর্যায়ের বাজারে পড়ে, কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও সাধারণ ভোক্তা সেই সুফল খুব কমই পান।