বাংলাদেশের টেক্সটাইল, ডাইং ও প্রিন্টিং খাতে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানো ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই)।
সংগঠনটির নেতারা বলছেন, উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদনে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ানো ও বিদ্যমান শিল্প কারখানাগুলোর আধুনিকায়নে বিদেশী সহযোগিতা এখন সময়ের দাবি।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীতে বিসিসিসিআই কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকে চীন ন্যাশনাল টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল কাউন্সিল, চায়না ডাইং অ্যান্ড প্রিন্টিং অ্যাসোসিয়েশন এবং ডাইং, প্রিন্টিং ও কেমিক্যাল উৎপাদন খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত ২০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ পক্ষের নেতৃত্ব দেন বিসিসিসিআই’র সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের শিল্প উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই খাতগুলোর প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ, দুই দেশের সহযোগিতার এক নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
বৈঠকটি টেক্সটাইল, ডাইং ও প্রিন্টিং খাতে জ্ঞান বিনিময় ও ফলপ্রসূ সংলাপের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে।
খোরশেদ আলম আরো বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের ৪০টির বেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান আর্থিক ও কারিগরি চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এ বাস্তবতায় নতুন কারখানা স্থাপনের পরিবর্তে বিদ্যমান শিল্পপ্রতিষ্ঠান আধুনিকায়ন ও উন্নয়নে বিদেশী সহযোগিতা অধিক কার্যকর ও ব্যয়-সাশ্রয়ী হতে পারে।
তিনি চীনা বিনিয়োগকারীদের যৌথ উদ্যোগ, অংশীদারত্ব ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
বৈঠকে চীনা প্রতিনিধিদলের নেতা লি লিংশেন বলেন, চীন প্রতিবছর প্রায় নয় বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাপড় বাংলাদেশে রফতানি করে, যা দুই দেশের শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্কের প্রতিফলন।
তিনি জানান, চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বিনিয়োগের সুযোগ সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে।
তিনি বলেন, শক্তিশালী উৎপাদন সক্ষমতা ও দক্ষ জনশক্তির কারণে, বাংলাদেশ টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পে একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য।
ভবিষ্যতেও দ্বিপক্ষীয় শিল্প সহযোগিতা জোরদারে বিসিসিসিআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বৈঠকে পোশাক, টেক্সটাইল, ডাইং ও প্রিন্টিং খাতে সহযোগিতা বাড়াতে উভয় পক্ষ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। বাসস


