বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশের অর্থনীতির প্রাণ হচ্ছে এসএমই ও এমএসএমই খাত। বাংলাদেশের মোট অর্থনীতির বড় অংশই অনানুষ্ঠানিক খাতে এবং এর মধ্যে এসএমই খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আজ বিকেলে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে এসএমই বৈশাখী মেলা ১৪৩৩-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি এসএমই খাতের উন্নয়নে তিন শ’ কোটি টাকার ক্রেডিট হোলসেলিং কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, যা প্রায় ১৫টি ব্যাংক ও চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছানো হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ বরাদ্দ আরো বৃদ্ধি করে দুই হাজার কোটিতে উন্নীত করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, এসএমই খাতের বিকাশের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদনে বৈচিত্র্য আনা এবং আরো বেশি মানুষকে এ খাতে সম্পৃক্ত করা সম্ভব। এ লক্ষ্যে সরকার সহায়ক ভূমিকা পালন করবে এবং উদ্যোক্তাদের পাশে থাকবে।
মেলা আয়োজনের জন্য এসএমই ফাউন্ডেশনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান।
এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে রাজধানীর আগারগাঁওস্থ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হয়েছে সাত দিনব্যাপী এসএমই বৈশাখী মেলা।
এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন ও শিল্প সচিব মো: ওবায়দুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসএমই ফাউন্ডেশনের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য শামীম আহমেদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী।
বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও উৎসবের চেতনাকে ধারণ করে নতুন বছরের আনন্দকে আরো প্রাণবন্ত করে তুলতেই এই মেলার আয়োজন। পরিবার-পরিজন, বন্ধু ও প্রিয়জনদের সাথে নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে বৈশাখ উদযাপনের সুযোগ করে দিতেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
মেলায় ১৫০টিরও বেশি স্টলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত এসএমই উদ্যোক্তারা হস্ত ও কারুশিল্প পণ্য, পাটজাত পণ্য, তৈরি পোশাক ও ফ্যাশন সামগ্রী, কৃষিজ প্রক্রিয়াজাত পণ্য, ঐতিহ্যবাহী/হেরিটেজ পণ্য, হোমমেড খাবার ও স্ট্রিট ফুড, কৃত্রিম গয়না, চামড়াজাত পণ্য এবং সুগন্ধি ও লাইফস্টাইল পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রয় করছেন।
উল্লেখ্য, আগামী ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।



