অশ্লীল ও অশালীন স্লোগান নিষিদ্ধের দাবিতে সভা ও মন্ত্রণালয়ে দাবিপত্র প্রেরণ

গণতান্ত্রিক সমাজে মত প্রকাশ ও প্রতিবাদের অধিকার থাকলেও সেই ভাষা অবশ্যই শালীন, দায়িত্বশীল এবং মানবিক হওয়া উচিত। নারীর শরীরকে অবমাননাকরভাবে ব্যবহার করে স্লোগান দেয়া সমাজের মূল্যবোধের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছে দেয়।

নয়া দিগন্ত ডিজিটাল

সমাজে শালীনতা, নারী সম্মান এবং শিশুদের সুস্থ মানসিক বিকাশ রক্ষার লক্ষ্যে নারী উন্নয়ন শক্তি গত ১৪ ও ১৫ মার্চ রাজধানীতে সংগঠনের নিজস্ব কার্যালয়ে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে দিনব্যাপী আলোচনা সভার আয়োজন করে। সভায় সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন জনসমাবেশ ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অশ্লীল ও অবমাননাকর স্লোগান ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন নারী উন্নয়ন শক্তির সভাপতি সেহেলী জাহান। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজে মত প্রকাশ ও প্রতিবাদের অধিকার থাকলেও সেই ভাষা অবশ্যই শালীন, দায়িত্বশীল এবং মানবিক হওয়া উচিত। তিনি উল্লেখ করেন যে, নারীর শরীরকে অবমাননাকরভাবে ব্যবহার করে স্লোগান দেয়া সমাজের মূল্যবোধের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছে দেয়।

সভায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন নারী উন্নয়ন শক্তির নির্বাহী পরিচালক ড. আফরোজা পারভীন। তিনি বলেন, জনসমক্ষে নারী কিংবা পুরুষের গোপনাঙ্গ নিয়ে অশ্লীল স্লোগান ব্যবহার সমাজে অবমাননাকর সংস্কৃতি তৈরি করছে, যা নারীর মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করার পাশাপাশি শিশুদের মানসিক বিকাশের জন্যও ক্ষতিকর। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এ ধরনের স্লোগান সমাজে নারী বিদ্বেষী মনোভাবকে উৎসাহিত করতে পারে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে অসুস্থ সামাজিক আচরণ তৈরি করতে পারে।

ফোরাম ফর কালচার অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট–এর সভাপতি সাহেদা ওয়াহাব তার বক্তব্যে বলেন, সামাজিক আন্দোলন বা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অশালীন ভাষা ব্যবহারের প্রবণতা একটি উদ্বেগজনক সাংস্কৃতিক অবক্ষয়ের লক্ষণ। তিনি মনে করেন, সমাজে সুস্থ ও সম্মানজনক পরিবেশ বজায় রাখতে হলে রাজনৈতিক ও সামাজিক বক্তব্যে শালীনতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

এ সময় একই সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক ড. সুলতান মোহাম্মদ রাজ্জাক বলেন, সমাজে পারস্পরিক সম্মান এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্য ভাষার ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, জনসমক্ষে অশ্লীল ও অবমাননাকর স্লোগান ব্যবহারের ফলে সামাজিক পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং এটি শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রেও ক্ষতিকর ভূমিকা রাখতে পারে।

ইয়াং উইমেন ফর ডেভেলপমেন্ট, রাইটস অ্যান্ড ক্লাইমেটের এক্সিকিউটিভ চেয়ারপারসন নুসরাত সুলতানা আফরোজ বলেন, এ ধরনের স্লোগান তরুণী ও কিশোরীদের আত্মসম্মান ও নিরাপত্তাবোধকে আঘাত করে। তিনি বলেন, যখন নারীর শরীরকে অপমানজনক ভাষায় উল্লেখ করা হয়, তখন অনেক তরুণী নিজেদের অপমানিত ও অনিরাপদ বোধ করে এবং জনজীবনে অংশগ্রহণে অনীহা তৈরি হতে পারে। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের সংস্কৃতি দীর্ঘমেয়াদে নারীর প্রতি অসম্মানকে স্বাভাবিক করে তুলতে পারে।

বক্তারা আরো বলেন, শিশুদের সামনে এ ধরনের অশালীন ভাষা ব্যবহারের ফলে তাদের মানসিক বিকাশে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে এবং এটি সমাজে শালীনতা ও পারস্পরিক সম্মানের সংস্কৃতিকে দুর্বল করে দেয়।

সভায় উপস্থিত বক্তারা সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে, অশ্লীল ও অবমাননাকর স্লোগান নিষিদ্ধ করার জন্য সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি জানানো হবে।

সভা শেষে সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক নারী উন্নয়ন শক্তির পক্ষ থেকে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবু জাফর মোঃ জাহিদ হোসেন বরাবর একটি দাবিপত্র প্রেরণ করা হয়। দাবিপত্রে এ ধরনের অশ্লীল ও অশালীন স্লোগান আইনগতভাবে নিষিদ্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন যে, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে নারী ও শিশুদের মর্যাদা এবং সুস্থ সামাজিক পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।