বুটক্যাম্প-২০২৬ সমাপ্ত

শিশুদের জীবনদক্ষতা উন্নয়নে সরকারের সাথে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ওয়ার্ল্ড ভিশনের

‘শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিতে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে খেলাধুলা, প্রশিক্ষণসহ যুগোপযোগী সুবিধা বাড়ানো হবে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
শিশুদের জীবনদক্ষতা উন্নয়নে টঙ্গীতে দু’ দিনব্যাপী ব্যতিক্রমী জীবনদক্ষতা বুটক্যাম্প-২০২৬
শিশুদের জীবনদক্ষতা উন্নয়নে টঙ্গীতে দু’ দিনব্যাপী ব্যতিক্রমী জীবনদক্ষতা বুটক্যাম্প-২০২৬ |নয়া দিগন্ত

আইনের সঙ্ঘাতে আসা শিশুদের উন্নয়নে সমাজসেবা অধিদফতরের সাথে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ।

শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র-বালক, টঙ্গী গাজীপুরে ৬৭১ জন নিবাসীকে নিয়ে প্রথমবারের মতো দু’ দিনব্যাপী জীবনদক্ষতা উন্নয়নের বুটক্যাম্প-২০২৬ সমাপ্ত হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এ অঙ্গীকার করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ-এর ন্যাশনাল ডিরেক্টর সুরেশ বার্টলেট।

সোম ও মঙ্গলবার পরপর দু’ দিন জীবনদক্ষতার ১১ বিষয়ে হাতে কলমে শেখানো হয় বুটক্যাম্পে। প্রতিটি ক্যাম্পে ২৫ মিনিট করে চলে একেকটি সেশন। এক সেশন শেষ, পরক্ষণেই শিশুরা যায় অন্য ক্যাম্পে। এভাবেই ১১টি ক্যাম্প ঘোরে শিশুরা। যা চলে টানা ৪ ঘণ্টা।

এর আগে, মঙ্গলবার সকালে বুটক্যাম্পের উদ্বোধন করেন কেন্দ্রের তত্তাবধায়ক মো: এমরান খান ও ওয়ার্ল্ড ভিশনের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার মানস বিশ্বাস।

সভাপতির ভাষণে সমাজসেবা অধিদফতরের প্রতিষ্ঠান শাখার পরিচালক সমীর মল্লিক বলেন, ‘শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিতে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে খেলাধুলা, প্রশিক্ষণসহ যুগোপযোগী সুবিধা বাড়ানো হবে। এমন ব্যতিক্রমী আয়োজনের জন্য ওয়ার্ল্ড ভিশনকে ধন্যবাদ জানান তিনি। পর্যায়ক্রমে সমাজসেবার শিশু সুরক্ষামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ ধরনের ক্যাম্প আয়োজনেরও ঘোষণা দেন তিনি।

বিদ্যমান শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র তিনটির সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্পের পরিচালক ও সমাজসেবা অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক মোহা: কামরুজ্জামান জানান, প্রকল্পের অর্থায়নে আগামী মাসে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের নিবাসীদের জন্য বড় আকারের একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে।

তত্ত্বাবধায়ক মো: এমরান খান তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে জানান, সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় নির্মিত নতুন প্রশাসনিক কাম একাডেমিক ভবন চালু হলে পুরনো প্রশাসনিক ভবনটিতে পুরোদমে স্কুল কার্যক্রম চালু করতে চান তিনি। যে স্কুলে ইনক্লুসিভ এডুকেশন সিস্টেমে কেন্দ্রের নিবাসী ছাড়াও পড়াশোনার সুযোগ থাকবে সাধারণ শিশুদেরও। একইসাথে কেন্দ্রের শিশুদের নিয়ে তিনি ‘এসইউকে স্পোর্টিং ক্লাব’ নামে একটি ক্রীড়া ক্লাবও চালু করতে চান, যাতে করে এখানকার নিবাসীরা জাতীয় বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশও নিতে পারে।

বিকেলে শিশুদের সারাদিনের বিভিন্ন সেশনে অর্জিত জ্ঞানের ওপরে চলে কুইজ প্রতিযোগিতা ও মনোমুগ্ধকর নৃত্য ও নিবাসীদের কণ্ঠে গান। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। বুটক্যাম্পে বিশেষ অতিথি ছিলেন সমাজসেবা অধিদফতরের পরিচালক (স্পেশাল এফেয়ার্স) মো: সাজ্জাদুল ইসলাম, পরিচালক (সামাজিক নিরাপত্তা) মো: মোশাররফ হোসেন, অতিরিক্ত পরিচালক (প্রতিষ্ঠান) মো: শহীদুল ইসলাম, অতিরিক্ত পরিচালক (আর্থ সামাজিক উন্নয়ন) মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এর সিনিয়র ডিরেক্টর অপারেশনস চন্দন জেড গমেজ, হেড অব চাইল্ড প্রটেকশন স্ট্রেলা রুপা, ঢাকা আরবান প্রোগ্রামের সিনিয়র ম্যানেজার জোয়ানা ডি রোজারিও।

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের প্রোগাম ম্যানেজার লিজা মিত্রের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র(বালক), টঙ্গী, গাজীপুর ও ওয়ার্ল্ড ভিশনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

কেন্দ্রের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে আলোচনায় জানা যায়, ১৯৭৪ সালে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পর এমন ভিন্নধর্মী আয়োজন এর আগে কখনোই হয়নি।