যাকাতের কার্যকর ব্যবস্থাপনায় দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব

মাস্তুল ফাউন্ডেশন দেশের মানুষের যাকাতের অর্থ সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রকৃত অসহায় পরিবারের কাছে পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করছে। এর ফলে অনেক পরিবার নতুনভাবে জীবিকা শুরু করার সুযোগ পাচ্ছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিধান যাকাতের সুষ্ঠু বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমাজে দারিদ্র্য হ্রাস এবং সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা সম্ভব। সঠিক পরিকল্পনা ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যাকাত একটি কার্যকর সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিণত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ যাকাত প্রদান করা হলেও এর একটি বড় অংশ এখনও সংগঠিত ব্যবস্থাপনার আওতার বাইরে রয়ে যায়। তবে বিভিন্ন মানবিক সংগঠন যাকাতভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিভিন্ন মানবিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি মাস্তুল ফাউন্ডেশনও দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

প্রতিষ্ঠানটি দেশের বিভিন্ন এলাকায় দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা, চিকিৎসা সহায়তা, শিক্ষা সহায়তা এবং স্বাবলম্বিতা তৈরির লক্ষ্যে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি দেশের বাইরে ফিলিস্তিনের গাজাতেও মানবিক সহায়তার বিভিন্ন উদ্যোগ পরিচালনা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, মাস্তুল ফাউন্ডেশন দেশের মানুষের যাকাতের অর্থ সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রকৃত অসহায় পরিবারের কাছে পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করছে। এর ফলে অনেক পরিবার নতুনভাবে জীবিকা শুরু করার সুযোগ পাচ্ছে। ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য আর্থিক সহায়তা, চিকিৎসা সহযোগিতা এবং শিক্ষাসামগ্রী বিতরণের মতো উদ্যোগ মানুষের জীবনে নতুন আশার সঞ্চার করছে।

মাস্তুল ফাউন্ডেশনের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার বাবু মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, যাকাতের অর্থ সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ব্যয় করা গেলে তা শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদানেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং দীর্ঘমেয়াদে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও স্বাবলম্বিতা গড়ে তোলার উদ্যোগ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই সমাধান তৈরি করতে সক্ষম।

মাস্তুল ফাউন্ডেশন জানায়, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার চেতনায় তারা সমাজের অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। সহমর্মিতা, সহযোগিতা এবং পারস্পরিক দায়িত্ববোধের মাধ্যমে একটি মানবিক ও সহনশীল সমাজ গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য। সম্মিলিত উদ্যোগ, স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে যাকাত সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার একটি শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।

মাস্তুল ফাউন্ডেশন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধিত একটি সেবামূলক জাতীয় প্রতিষ্ঠান। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ ও শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। মানবিক কার্যক্রমের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—করোনা মহামারির সময় দাফনসেবা প্রদান, ২০২২ ও ২০২৪ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে জরুরি ত্রাণ বিতরণ এবং ২০২৩ সালের তুরস্কের ভূমিকম্পে বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেয়া।

প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম উদ্যোগ “যাকাত স্বাবলম্বী” প্রকল্পের মাধ্যমে অসংখ্য অসহায় ব্যক্তি ও যুবকের জন্য স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, যা তাদের আত্মনির্ভরশীল হতে সহায়তা করছে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে বিনামূল্যে একবেলার খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। ঢাকার হাজারীবাগের বারইখালি এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব মাদ্রাসা, সেল্টারহোম, এতিমখানা ও মেহমানখানা রয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর বিধান অনুযায়ী মাস্তুল ফাউন্ডেশনকে প্রদত্ত যেকোনো পরিমাণ যাকাত, দান বা সদকা আয়করমুক্ত সুবিধার আওতাভুক্ত। ফলে প্রতিষ্ঠানটিতে অনুদান প্রদান করলে দাতারা আয়কর রেয়াতের সুবিধাও পেয়ে থাকেন। গেজেট : mastul.net/gov-tax-rebate বিজ্ঞপ্তি