অপরিণত জন্ম : দুই মাসের লড়াই শেষে বাবা-মায়ের কোলে চারুমতি

পাবনায় জন্ম নেয়া যমজ সন্তানের মধ্যে বড় চারুমতির জীবনের শুরুটাই ছিল নানা অনিশ্চয়তায় ঘেরা। জন্মের সময়ই তার যমজ ভাই মারা যায়। পরে চারুমতিকে দ্রুত ল্যাবএইড হাসপাতালের নবজাতকের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (এনআইসিইউ) অধীনে চিকিৎসা দেয়া শুরু হয়।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

মাত্র ২৬ সপ্তাহের গর্ভকাল পূর্ণ হওয়ার আগেই জন্ম নেয়া এবং জন্মের সময় মাত্র ৬০০ গ্রাম ওজনের নবজাতক চারুমতি দীর্ঘ প্রায় দুই মাসের নিবিড় চিকিৎসা শেষে অবশেষে বাবা-মায়ের কোলে ফিরেছে। রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই শিশুটির সুস্থ হয়ে ওঠার ঘটনাকে চিকিৎসকেরা আধুনিক নবজাতক চিকিৎসার একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে দেখছেন।

পাবনায় জন্ম নেয়া যমজ সন্তানের মধ্যে বড় চারুমতির জীবনের শুরুটাই ছিল নানা অনিশ্চয়তায় ঘেরা। জন্মের সময়ই তার যমজ ভাই মারা যায়। পরে চারুমতিকে দ্রুত ল্যাবএইড হাসপাতালের নবজাতকের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (এনআইসিইউ) অধীনে চিকিৎসা দেয়া শুরু হয়।

চিকিৎসকেরা জানান, নানা জটিলতা থাকা সত্ত্বেও চারুমতি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে। নবজাতক বিশেষজ্ঞ, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করে।

হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার সময় চারুমতির ওজন বেড়ে ৭৬০ গ্রামে দাঁড়ায়। তবে তার নিয়মিত ফলো-আপ ও বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

Charumoti---2

এ উপলক্ষে ল্যাবএইড হাসপাতালে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আহমদ দাউদ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন নবজাতক ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল মান্নান, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আজমেরী সুলতানা চৌধুরী এবং গাইনি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মরিয়ম ফারুকী (স্বাতী)। এ সময় হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চিকিৎসক ও নার্সরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে চারুমতির বাবা-মায়ের হাতে হাসপাতালের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ উপহার তুলে দেয়া হয়। তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

চারুমতি ল্যাবএইড হাসপাতালের ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার (কেএমসি) ইউনিটে চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারী প্রথম শিশু। এই পদ্ধতিতে মা ও শিশুর ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ, মাতৃদুগ্ধ পান এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়। চিকিৎসকদের মতে, অপরিণত ও কম ওজন নিয়ে জন্ম নেয়া শিশুদের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, চারুমতির সুস্থ হয়ে ওঠার ঘটনা চিকিৎসকদের নিষ্ঠা, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসাব্যবস্থা এবং পরিবারের অবিচল মানসিক শক্তির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।