স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে সিম্পোজিয়াম

বাজেট বাস্তবায়নে সুশাসন, দক্ষতা ও সমন্বয়ের ওপর জোর

সিম্পোজিয়ামে বক্তারা জাতীয় বাজেটের কার্যকর বাস্তবায়ন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সরকার, শিল্পখাত ও শিক্ষাঙ্গনের মধ্যে আরো শক্তিশালী সমন্বয় গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে পোস্ট-বাজেট সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করেছে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ।

শনিবার (২৭ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ও অর্থনীতি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সিম্পোজিয়ামে নীতিনির্ধারক, অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ ও শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন।

সিম্পোজিয়ামে সভাপতিত্ব করেন স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ভিসি অধ্যাপক ড. শরীফ নাফে আস সাবের। তিনি বলেন, শুধু বাজেটে অর্থ বরাদ্দ করলেই হবে না, বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় করার সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে। জনগণ, শিল্পখাত ও শিক্ষাঙ্গনের সমন্বিত অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো বাজেটই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে পারে না। তিনি স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটিকে একটি ‘উৎকর্ষের স্থান’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রধান আলোচকদের একজন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৭ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা জ্বালানি খাতের ধারাবাহিক অগ্রগতির প্রতিফলন।

বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. ইফতিখার মোস্তফা বলেন, বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি মানুষের প্রত্যাশা ও উন্নয়নের রূপরেখা। তাই বাজেট প্রণয়নে জনগণকেন্দ্রিক পরিকল্পনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব এ কে এম সোহেল জানান, গত বছরের তুলনায় দেশে বিনিয়োগের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এটি জাতীয় অর্থনীতির প্রতি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির ইঙ্গিত বহন করে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট গত বছরের তুলনায় আরও শিল্পবান্ধব। এর ফলে উৎপাদন ও রপ্তানি খাতের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক কমিশনার ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ আঞ্চলিক জ্বালানি খাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ভারত ও পাকিস্তানে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রত্যাশিত সাফল্য আসেনি। তাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে বাস্তবতা ও সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

সিম্পোজিয়ামের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী শামসুল ইসলাম ইয়াসিন এবং শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা থেকে পাঠ করেন আইন বিভাগের শিক্ষার্থী শুভ্র বৈরাগী। স্বাগত বক্তব্য দেন অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবদুস সাত্তার।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন মার্কেটিং বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক নাজমুল হক, প্রাতিষ্ঠানিক মানোন্নয়ন সেলের (আইকিউএসি) পরিচালক ও সহযোগী অধ্যাপক আজিজুল হক এবং অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারজানা সুলতানা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারিয়া কবির। যৌথভাবে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ফারিয়া কবির ও অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুস্মিতা বণিক।

শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রধান গোলাম রব্বানী। তিনি অতিথি, বক্তা, আয়োজক, মিডিয়া পার্টনার এবং অংশগ্রহণকারী সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

সিম্পোজিয়ামে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. মৃত্যুঞ্জয় আচার্য্য, রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ আব্দুল মতিন, জনসংযোগ বিভাগের প্রধান প্রদীপ্ত মোবারক, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিপুলসংখ্যক অতিথি উপস্থিত ছিলেন।

সিম্পোজিয়ামে বক্তারা জাতীয় বাজেটের কার্যকর বাস্তবায়ন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সরকার, শিল্পখাত ও শিক্ষাঙ্গনের মধ্যে আরো শক্তিশালী সমন্বয় গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।