চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে প্রতিবেশী ভারতে বাংলাদেশের পণ্য রফতানি বেড়েছে ৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এতে দেশটির বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি ভারতে রফতানি আরো বাড়ানোর সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) দেশভিত্তিক রফতানি তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে ভারতে বাংলাদেশ ৩৩ কোটি ৫২ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য রফতানি করেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে রফতানির পরিমাণ ছিল ৩১ কোটি ১৩ লাখ ডলার।
অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে ভারতে বাংলাদেশের রফতানি বেড়েছে দুই কোটি ৩৯ লাখ ডলার।
ভারতের বাজারে রফতানি বাড়ার এই প্রবণতা দেশের সামগ্রিক রফতানি আয় বৃদ্ধির সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বাংলাদেশের মোট পণ্য রফতানি প্রায় ৯১৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৮৬৯ কোটি ডলার।
বাংলাদেশের জন্য ভারত গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক বাজারগুলোর একটি। ফলে দেশটিতে রফতানি বাড়ার এই প্রবণতা দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইপিবি’র তথ্য অনুযায়ী, শুধু জুলাই মাসেই ভারতে বাংলাদেশের রফতানি বেড়েছে ১৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ।
ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাজারেও রফতানি আয় বেড়েছে। প্রথম দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি ১১ দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়ে ১৮৭ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। স্পেনে রফতানি বেড়েছে ১১ দশমিক ৭০ শতাংশ, যা ৮৩ কোটি ৮৫ লাখ ডলারে পৌঁছেছে।
তবে ভারতের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে এখনো বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ভারত থেকে প্রায় এক হাজার ১০০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। বিপরীতে একই সময়ে ভারতে বাংলাদেশের রফতানি ছিল প্রায় ১৭৫ কোটি ডলার। ফলে ওই অর্থবছরে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯২১ কোটি ডলার।
এই বড় বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ভারতের বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের রফতানি বাড়ানোর সুযোগ কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্যের জন্য ভারতের বিশাল ভোক্তা বাজারে আরো বেশি প্রবেশাধিকার তৈরি করা গেলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ভারসাম্য আনার সুযোগ রয়েছে।
এ সময়ে যুক্তরাজ্যে রফতানি বেড়েছে ৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ, পরিমাণ ৯৭ কোটি ৪ লাখ ডলার। নেদারল্যান্ডসে রফতানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৮২ শতাংশ, পরিমাণ ৪৯ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। কানাডায় রফতানি ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ২৭ কোটি ৯৩ লাখ ডলার।
উদীয়মান বাজারগুলোর মধ্যে তুরস্কে বাংলাদেশের রফতানি সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। দেশটিতে রফতানি ৮৭ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়ে ১৩ কোটি ৮৯ লাখ ডলারে পৌঁছেছে।
এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে রফতানি বেড়েছে ১৯ দশমিক ৫০ শতাংশ, পরিমাণ ৭ কোটি ৪২ লাখ ডলার। মেক্সিকোতে রফতানি ১৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
সুইডেনে বাংলাদেশের রফতানি বেড়েছে ১২ দশমিক ০৯ শতাংশ, পরিমাণ ১৩ কোটি ৪ লাখ ডলার। অস্ট্রেলিয়ায় রফতানি বেড়েছে ২ দশমিক ৫১ শতাংশ, যা ১৬ কোটি ৪৯ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
সামগ্রিক রফতানি চিত্রও আগস্টে বেশ ভালো ছিল। ওই মাসে বাংলাদেশ ৪৪৩ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি করেছে, যা গত বছরের আগস্টের ৩৯২ কোটি ডলারের তুলনায় ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ বেশি।
বড় বাজার, ভৌগোলিক নৈকট্য এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক যোগাযোগের কারণে রফতানিকারকদের কাছে ভারতের বাজারের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সাম্প্রতিক রফতানি প্রবৃদ্ধি বলছে, প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি ভারতসহ আঞ্চলিক ও উদীয়মান বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের উপস্থিতি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
বিশেষ করে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি প্লাস্টিক পণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্যসহ অপ্রচলিত পণ্যের রফতানি বাড়াতে ভারতের বাজারকে আরো বেশি কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভারতের বাজারে রফতানি সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন বাজারে প্রবেশ এবং পণ্যের বহুমুখীকরণ অব্যাহত রাখতে পারলে বাংলাদেশের সামগ্রিক রফতানি আয় আরো বাড়ানো সম্ভব হবে। একই সাথে ভারতের সাথে বিদ্যমান বড় বাণিজ্য ঘাটতি কমাতেও রফতানি বৃদ্ধির এই প্রবণতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র : বাসস



