খেলাপি ঋণ আদায়ের কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা এবং আদালতে বিচারাধীন ঋণসংক্রান্ত মামলার সংখ্যা কমাতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (অল্টারনেটিভ ডিসপিউট রেজল্যুশন-এডিআর) কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্তির নীতিমালা, ২০২৬ জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এডিআর-এর এই কার্যক্রমে যোগ্য ও সক্ষম প্রতিষ্ঠান যুক্ত হলে খেলাপি ঋণ আদায়ের প্রক্রিয়া আরো গতিশীল হবে এবং আদালতে বিচারাধীন ঋণসংক্রান্ত মামলার চাপ কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে জানায়, ‘বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (এডিআর) জন্য মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্তিকরণ সংক্রান্ত নীতিমালা, ২০২৬’ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
নির্দেশনায় বলা হয়, খেলাপি ঋণ আদায় এবং ঋণসংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তিতে এডিআর পদ্ধতি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংক এর আগে বিআরপিডি সার্কুলার নম্বর-১১/২০২৪ এবং বিআরপিডি-২ সার্কুলার লেটার নম্বর-০২/২০২৬ জারি করে এডিআর-এর মাধ্যমে খেলাপি ঋণসংক্রান্ত বিরোধ ও মামলা নিষ্পত্তির প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছিল। তবে আর্থিক খাতে মধ্যস্থতা ব্যবস্থার বিস্তার ঘটাতে যোগ্যতা, সক্ষমতা ও উপযুক্ততার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট নীতিমালার প্রয়োজন ছিল। সেই লক্ষ্যেই নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।
নীতিমালায় বলা হয়, এডিআর পরিচালনায় আগ্রহী প্রতিষ্ঠানকে সোসাইটিজ রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট, পার্টনারশিপ অ্যাক্ট বা কোম্পানি আইনের আওতায় নিবন্ধিত হতে হবে। পাশাপাশি হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন এবং কমপক্ষে তিন বছরের পেশাগত বা ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। প্রতিষ্ঠান বা এর পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের দেউলিয়া, ঋণখেলাপি বা দুর্নীতিসহ গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত হওয়া যাবে না।
এতে আরো বলা হয়, প্রতিটি তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের অন্তত পাঁচ সদস্যের একটি মধ্যস্থতাকারী প্যানেল থাকতে হবে। প্যানেলে অন্তত একজন হিসাববিদ ও একজন আইন বিশেষজ্ঞ থাকা বাধ্যতামূলক।
মধ্যস্থতাকারীদের ব্যাংকিং, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, আইন, হিসাবরক্ষণ, নিরীক্ষা বা বিচারিক কাজে অন্তত ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে এবং তারা ঋণখেলাপি বা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি (পিইপি) হতে পারবেন না।
তালিকাভুক্তির জন্য আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানকে একটি নির্দিষ্ট কার্যালয়, মধ্যস্থতা কক্ষ, ডিজিটাল কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, অনলাইন শুনানির সুবিধা, সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং তথ্য সংরক্ষণের সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে। একইসাথে স্বার্থের সঙ্ঘাত ব্যবস্থাপনা, গোপনীয়তা রক্ষা, আচরণবিধি ও অভিযোগ নিষ্পত্তি নীতিমালা প্রণয়ন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আবেদন মূল্যায়নে ১০০ নম্বরের স্কোরিং ম্যাট্রিক্স অনুসরণ করা হবে এবং তালিকাভুক্ত হতে ন্যূনতম ৭০ নম্বর অর্জন করতে হবে। প্রাথমিকভাবে তালিকাভুক্তির মেয়াদ হবে তিন বছর এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ৯০ দিন আগে নবায়নের জন্য আবেদন করতে হবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি ক্যালেন্ডার বছরের শেষে দুই মাসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে বার্ষিক প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনে এসব প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন পরিচালনা করতে পারবে এবং গুরুতর অনিয়ম, দুর্নীতি, মিথ্যা তথ্য প্রদান বা নীতিমালা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে তালিকাভুক্তি স্থগিত বা বাতিল করার ক্ষমতা রাখবে। বাসস



