প্রবাসীদের জন্য নতুন ‘এনআরসিটিএ’ হিসাব চালু

‘নতুন এ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রবাসীরা দেশে রেমিট্যান্সভিত্তিক টাকা হিসাব পরিচালনার পাশাপাশি বিনিয়োগ, আমানত সংরক্ষণ এবং মূলধন ও মুনাফা সহজে বিদেশে প্রত্যাবাসনের সুযোগ পাবেন।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
বাংলাদেশ ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংক |সংগৃহীত

প্রবাসী বাংলাদেশীদের (এনআরবি) জন্য ‘নন-রেসিডেন্ট কনভার্টিবল টাকা অ্যাকাউন্ট’ (এনআরসিটিএ) নামে নতুন একটি ব্যাংক হিসাব সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রবাসীরা দেশে রেমিট্যান্সভিত্তিক টাকা হিসাব পরিচালনার পাশাপাশি বিনিয়োগ, আমানত সংরক্ষণ এবং মূলধন ও মুনাফা সহজে বিদেশে প্রত্যাবাসনের সুযোগ পাবেন।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) জারি করা এক সার্কুলারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, অফশোর ব্যাংকিং আইন, ২০২৪ এবং ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন অ্যাক্ট, ১৯৪৭-এর অধীনে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নতুন হিসাব সুবিধা চালু করা হয়েছে।

সার্কুলার অনুযায়ী, তফসিলি ব্যাংকগুলোর অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে প্রবাসী বাংলাদেশীরা সঞ্চয়ী, চলতি ও মেয়াদি আমানতসহ বিভিন্ন ধরনের এনআরসিটিএ হিসাব খুলতে পারবেন। ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে পাঠানো রেমিট্যান্স এবং বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব থেকে টাকায় রূপান্তরিত অর্থ এসব হিসাবে জমা রাখা যাবে।

এ হিসাবগুলোতে বৈদেশিক রেমিট্যান্স, অন্য এনআরসিটিএ থেকে স্থানান্তরিত অর্থ, অর্জিত সুদ বা মুনাফা, বিদেশী প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই), পোর্টফোলিও বিনিয়োগ এবং বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত অন্যান্য বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত প্রত্যাবাসন যোগ্য অর্থ জমা করা যাবে। এছাড়া নতুন শেয়ার ইস্যুতে বিনিয়োগের অর্থ ফেরত এবং অন্যান্য অনুমোদিত ফেরতও এ হিসাবে জমা করা যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এনআরসিটিএ হবে টাকাভিত্তিক বাজার চালিত সুদ বা মুনাফাবাহী হিসাব। হিসাবের মূলধন ও অর্জিত মুনাফা উভয়ই অবাধে বিদেশে পাঠানো যাবে। পাশাপাশি বৈধ স্থানীয় ব্যয় নির্বাহ, অন্য এনআরসিটিএ বা অনাবাসী টাকা হিসেবে (এনআরটিসি) স্থানান্তর, বৈদেশিক মুদ্রা হিসেবে রূপান্তর এবং বিদেশী বিনিয়োগে অর্থ ব্যবহারের সুযোগও থাকবে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, এনআরসিটিএর আওতায় সংগৃহীত আমানত বিশেষায়িত অঞ্চলের ‘টাইপ-এ’ শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে টাকাভিত্তিক ঋণ হিসেবে দেয়া যাবে। তবে এসব ঋণ শুধু বেতন-ভাতা, মজুরি ও ইউটিলিটি বিলের মতো চলতি ব্যয় নির্বাহে ব্যবহার করা যাবে এবং ঋণ পরিশোধ করতে হবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের রফতানি আয় থেকে।

এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশী অথবা তাদের মনোনীত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা কোম্পানির অনুকূলে এনআরসিটিএতে সংরক্ষিত আমানতের বিপরীতে ঋণ সুবিধাও দেয়া যাবে। তবে এসব ঋণ পুনঃঋণ প্রদান, কৃষি বা বাগান কার্যক্রম এবং রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় বিনিয়োগে ব্যবহার করা যাবে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এ ধরনের ঋণ ব্যক্তিগত প্রয়োজন, ব্যবসায়িক কার্যক্রম, অ-প্রত্যাবাসনযোগ্য প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ কিংবা নিজস্ব ব্যবহারের জন্য আবাসিক সম্পত্তি ক্রয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে। ঋণ পরিশোধ করতে হবে এনআরসিটিএতে সংরক্ষিত আমানত সমন্বয়ের মাধ্যমে অথবা নতুন রেমিট্যান্স এনে।

সার্কুলারে আরো বলা হয়েছে, অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটগুলোকে হিসাব খোলা ও পরিচালনার ক্ষেত্রে ‘নো ইয়োর কাস্টমার’ (কেওয়াইসি), অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ (এএমএল/সিএফটি), কর সংক্রান্ত বিধান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকে নিয়মিত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।

প্রবাসীদের সুবিধার্থে অনলাইন ও ইন্টারঅ্যাকটিভ ওয়েব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে হিসাব খোলার সুবিধা চালুরও পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তবে এ ধরনের সেবা চালুর আগে পণ্যের বৈশিষ্ট্য, পরিচালন পদ্ধতি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং পরিপালন কাঠামো সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, অফশোর ব্যাংকিং আইন, ২০২৪-এর ধারা ১১(৭) ও ২৫(২) এবং বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭-এর ধারা ২০(৩)-এর অধীনে জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে। বাসস