এক মাসের বেশি সময় পর অবশেষে ‘স্বাভাবিক’ হচ্ছে গ্যাস সরবরাহ

পৌঁছেছে নতুন এলএনজি ট্যাংকার, এক্সিলারেটের টার্মিনাল চালু

এলএনজিবোঝাই একটি ট্যাংকার জাহাজ আজ শনিবার দুপুরে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে পৌঁছেছে। নতুন যোগান চলে আসার কিছুক্ষণ পরেই এক্সিলারেট টার্মিনালে আগে থেকে জমা থাকা এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডের পাইপ লাইনে ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়।

বিশেষ সংবাদদাতা, চট্টগ্রাম
গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে চলেছে
গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে চলেছে |প্রতীকী ছবি

দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় পর অবশেষে স্বাভাবিক হতে চলেছে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা। তবে এই ‘স্বাভাবিক অবস্থা’র স্থায়িত্ব কতদিন হবে সেটা নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।

আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে কেনা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজিবোঝাই একটি ট্যাংকার জাহাজ আজ শনিবার দুপুরে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে পৌঁছেছে। নতুন যোগান চলে আসার কিছুক্ষণ পরেই এক্সিলারেট টার্মিনালে আগে থেকে জমা থাকা এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডের পাইপ লাইনে ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়।

আগামীকাল রোববার সকাল নাগাদ টার্মিনালটি থেকে পুরোদমে গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানী লিমিটেডের কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আজ দুপুর দেড়টার দিকে মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী এলএনজি ট্যাংকার ‘ফ্ল্যাক্স কারেজাস’ জাহাজ মহেশখালীতে এক্সিলারেটের ভাসমান এমএলএনজি টার্মিনালে ভিড়েছে। আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে কেনা এলএনজিবাহী এই ট্যাংকারটি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যামেরন পোর্ট থেকে এসেছে বলে মেরিন ট্রাফিকের তথ্য বলছে।

বাংলাদেশ সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির আওতায় কাতার এনার্জি ও ওমানের ওকিউ ট্রেডিং লিমিটেডের কাছ থেকে এলএনজি সংগ্রহ করে। এছাড়া সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়াত্ত প্রতিষ্ঠান আরামকো ট্রেডিং এসএ’র সাথে স্বল্পমেয়াদী জিটুজি চুক্তিও রয়েছে। এর বাইরে পেট্রোবাংলার তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্য থেকে দরপত্রের মাধ্যমে খোলাবাজার থেকেও এলএনজি কেনা হয়। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সরবরাহ চেইন ভেঙ্গে পড়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সঙ্কট কাটাতে দরপত্র ছাড়াই ডিপিএম (সরাসরি ক্রয়) পদ্ধতিতে এলএনজি আমদানির ক্রয়াদেশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সব জাহাজের সিডিউল নিশ্চিত করা যায়নি।

এদিকে, নাইজেরিয়া থেকে ছেড়ে আসা অপর একটি এলএনজি ট্যাংকার গত বৃহস্পতিবার সামিটের টার্মিনালে পৌঁছে। সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে সরকার স্পট মার্কেট থেকে দ্রুত দুই জাহাজ এলএনজি ক্রয় করে দ্রুত সরবরাহ লাইনে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেয়। এরই অংশ হিসেবে আজকের ট্যাংকারটি এসেছে এবং আগামী ২৬ আগস্ট আরো একটি এলএনজি ট্যাংকার পৌঁছার সিডিউল রয়েছে বলে জানা গেছে।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের চট্টগ্রামস্থ কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন নয়া দিগন্তকে জানান, এলএনজি কার্গোবোঝাই নতুন জাহাজ এমএলএনজি টার্মিনালে নোঙ্গর করেছে দুপুর নাগাদ। জাহাজটি থেকে রাত ১০টা নাগাদ এলএনজি এফএসআরইউতে (ভাসমান টার্মিনাল) স্থানান্তর শুরু হবে। এক্সিলারেটের এমএলএনজি টার্মিনালে বিদ্যমান এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডে বেলা ২টা নাগাদ ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ শুরু হয়েছে। বর্তমানে দু’টি টার্মিনাল থেকে ৬৭০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছে।

দুটি টার্মিনালের সক্ষমতা অনুযায়ী ১১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পেতে আগামীকাল রোববার সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলেও তিনি জানান।

পেট্রোবাংলার ডিজিএম (জনসংযোগ) তারিকুল ইসলাম খান নয়া দিগন্তকে বলেন, একটি এলএনজি কার্গো জাহাজ আজ শনিবার এমএলএনজি টার্মিনালে বার্থিং নিয়েছে। স্পট মার্কেট থেকে কেনা এলএনজি ভাসমান টার্মিনালে স্থানান্তরের কথা জানান তিনি।

এছাড়া আগামী ২৬ আগস্ট স্পট মার্কেট থেকে কেনা আরো একটি এলএনজি কার্গো জাহাজ পৌঁছার কথা রয়েছে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেটের এমএলএনজি টার্মিনালে অগ্নিদুর্ঘটনার পর সারাদেশে গ্যাসের সরবরাহ নাজুক পর্যায়ে পৌঁছে। ইতোমধ্যে টার্মিনালটি সচল করা হলেও এলএনজির মজুদ না থাকায় সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দেশের শিল্প কারখানা থেকে শুরু করে গণপরিবহন চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত, বন্ধ হয়ে যায় শিল্পোৎপাদন ও বাসাবাড়ির রান্না। আর গ্যাস সঙ্কটে বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে পড়ে গোটা দেশ। দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় ধরে চলমান এমন চরম ভোগান্তির আপাত সুরাহা হতে চলেছে।