পে-অর্ডার ও চেকের পাশাপাশি সরাসরি ইএফটি’র মাধ্যমে ভোক্তা ঋণের অর্থ পরিশোধ

কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট করেছে যে প্রচলিত বিধি-বিধানে বিশেষভাবে অনুমোদিত না হলে কোনো অবস্থাতেই ঋণের অর্থ সরাসরি ঋণগ্রহীতার হিসাবে জমা করা যাবে না বা নগদে প্রদান করা যাবে না।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
বাংলাদেশ ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংক |ইন্টারনেট

অটো ঋণ, গৃহঋণ, ভোক্তা টেকসই পণ্য ক্রয় ঋণ এবং পেশাজীবীদের জন্য ঋণের অর্থ এখন থেকে প্রচলিত পে-অর্ডার ও চেকের পাশাপাশি সরাসরি ইলেকট্রনিক তহবিল স্থানান্তরের (ইএফটি) মাধ্যমে বিক্রেতা বা সরবরাহকারীকে পরিশোধ করা যাবে।

আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

সার্কুলারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, ২০০৪ সালের ৩ নভেম্বর জারি করা বিআরপিডি সার্কুলার নং-৭ অনুযায়ী ভোক্তা অর্থায়নের আওতায় অটো লোন, কনজিউমার ডিউরেবল লোন এবং পেশাজীবীদের জন্য ঋণের অর্থ যথাযথ ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং অর্থ অপব্যবহারের ঝুঁকি কমাতে এতদিন বিক্রেতার অনুকূলে পে-অর্ডার বা চেকের মাধ্যমে পরিশোধের নির্দেশনা ছিল।

নতুন এই সার্কুলারে বলা হয়, দেশের পেমেন্ট ব্যবস্থায় দ্রুত ডিজিটালাইজেশনের ফলে প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা যুক্ত হলে পরিচালনগত দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে, নিষ্পত্তিতে বিলম্ব কমবে, কাগজভিত্তিক লেনদেনের ব্যয় হ্রাস পাবে এবং পেমেন্ট ইনস্ট্রুমেন্ট-সংক্রান্ত জালিয়াতির ঝুঁকিও কমবে। একই সাথে তাৎক্ষণিক তহবিল স্থানান্তরের মাধ্যমে সম্পদ হস্তান্তর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে এবং ব্যাংক, বিক্রেতা ও ঋণগ্রহীতাদের জন্য আরো নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন লেনদেন নিশ্চিত হবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, ঋণ বিতরণকারী ব্যাংক বিক্রেতা বা সরবরাহকারীর একই ব্যাংকে রক্ষিত হিসাবে সরাসরি অর্থ স্থানান্তর করতে পারবে। বিক্রেতার হিসাব অন্য কোনো তফসিলি ব্যাংকে থাকলে রিয়েল-টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট (আরটিজিএস) ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থ পাঠানো যাবে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট করেছে যে প্রচলিত বিধি-বিধানে বিশেষভাবে অনুমোদিত না হলে কোনো অবস্থাতেই ঋণের অর্থ সরাসরি ঋণগ্রহীতার হিসাবে জমা করা যাবে না বা নগদে প্রদান করা যাবে না।

সার্কুলারে আরো বলা হয়েছে, ডিজিটাল অর্থপ্রদান ব্যবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট পরিচালনগত ঝুঁকি, জালিয়াতি, সাইবার নিরাপত্তা, তৃতীয় পক্ষের ঝুঁকি এবং ভুল বা অননুমোদিত অর্থ স্থানান্তরের ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যাংকগুলোকে যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এসব ব্যবস্থা ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নীতিমালা, কার্যপ্রণালি এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামোর অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সঠিক বিক্রেতার কাছে অর্থ স্থানান্তরের দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ওপরই বর্তাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, সরাসরি ইলেকট্রনিক তহবিল স্থানান্তরের এ ব্যবস্থা বিক্রেতাকে অর্থ প্রদানের একটি অতিরিক্ত অনুমোদিত মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে বিআরপিডি সার্কুলার নং-৭/২০০৪ এবং এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে জারি করা অন্যান্য নির্দেশনার বাকি সব বিধান অপরিবর্তিত থাকবে।

সংশোধিত ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র : বাসস