কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী খাতে ঋণপ্রবাহ অব্যাহত রাখবে বাংলাদেশ ব্যাংক : গভর্নর

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একইসাথে ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণেও বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো: মোস্তাকুর রহমান
মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো: মোস্তাকুর রহমান |বাসস

টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে উৎপাদনমুখী ও কর্মসংস্থান খাতে ঋণপ্রবাহ অব্যাহত রাখবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আজ শনিবার খুলনায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ষাণ্মাসিকের মুদ্রানীতি প্রণয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো: মোস্তাকুর রহমান এ কথা বলেন। মহানগরীর একটি অভিজাত হোটেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

গভর্নর বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একইসাথে ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণেও বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং অভ্যন্তরীণ বাজার ব্যবস্থার বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে অংশীজনদের মতামত গ্রহণের জন্য এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে।

মতবিনিময় সভায় বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে মূল্যস্ফীতির চাপ, বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের স্থিতিশীলতা, সুদহার ব্যবস্থাপনা, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ, উৎপাদন ও বিনিয়োগ পরিস্থিতি এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বিষয় গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা হয়।

অংশগ্রহণকারীরা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও সময়োপযোগী মুদ্রানীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে একদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এবং অন্যদিকে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও রফতানি কার্যক্রমে ইতিবাচক গতি বজায় থাকে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও রফতানিমুখী শিল্পখাতে সহজ শর্তে অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ সময় কৃষিখাত, মৎস্যখাত ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানানো হয়।

খুলনা অঞ্চলের প্রেক্ষাপটে অংশগ্রহণকারীরা মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম, চিংড়ি ও মৎস্য রফতানি, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষিভিত্তিক শিল্প এবং অন্যান্য উৎপাদনমুখী খাতের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন।

তারা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা, এলসি খোলার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং ব্যাংকিং সেবায় দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে সুশাসন জোরদার, খেলাপি ঋণ কমানো এবং আর্থিক খাতের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো: হাবিবুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক মাহমুদ সালাহউদ্দিন নাসের ও মো: রুকনুজ্জামানসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, তফসিলি ব্যাংকের আঞ্চলিক প্রধান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা, রফতানিকারক, আমদানিকারক, কৃষি উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিনিধিরা, খুলনা উইমেন চেম্বার ও খুলনা চেম্বারের নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা সভায় অংশ নেন।

সূত্র : বাসস