বিশেষ সংবাদদাতা, ব্র্যাক সিডিএম, সাভার থেকে
বর্তমানে পুঁজিবাজারের মাঠ তো খেলার জন্য পুরো প্রন্তুত। যারা বিনিয়োগ করতে চান, তাদের জন্য ভালো ফল পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। আপনি খেলতে আসছেন না কেন? কোন ধরনের মাঠ চান, যে মাঠে ফাউল হবে আপনি সে মাঠে খেলবেন বলে মন্তব্য করেছেন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার এম. আলী আকবর।
তিনি বলেন, ‘আপনি কোন ধরনের মাঠ চান আমরা জানি না। আমরা চাই বিনিয়োগকারীরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন। আর পুঁজিবাজারও যেন উন্নতি করে।’
বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) থেকে দু’দিনের সাভারের ব্র্যাক সিডিএম-এ আবাসিক প্রশিক্ষণে উদ্বোধনীতে এই মন্তব্য করেন তিনি।
পুঁজিবাজার নিয়ে কাজ করা সাংবাদিকদের সংগঠন ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরামের (সিএমজেএফ) সদস্যদের জন্য বিএসইসি দুই দিনের আবাসিক এই কর্মশালাটি আয়োজন করে। কর্মশালার শুরুতে ভিডিও বার্তায় শুভেচ্ছা জানান, বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ।
এম আলী আকবর বলেন, ‘সাধারণভাবে প্রশ্ন জাগে, বিএসইসি এত জরিমানা কেন করে? যখন কেউ আইন বা বিধি লঙ্ঘন করে তখনই পেনাল্টি করা হয়। যে বা যারা পুঁজিবাজারকে ধ্বংস করবে বা করে তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে। তবে এটা আগেও করা হয়েছে, কৌশলে। অথবা করা হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘সত্য সুন্দরের সাথে অসত্যকে মিশ্রণ করা যাবে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘যিনি জরিমানা পরিশোধে রাজি, তার কোনো সমস্যা নেই। আর যিনি আপিল করবেন, সেটিও তার অধিকার। কমিশনের পক্ষে এই প্রক্রিয়া বন্ধ করা সম্ভব নয়।’ পুঁজিবাজার ধ্বংসে যেসব চক্র সক্রিয়, বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির জন্য দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
বিএসইসি কমিশনার বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, এনফোর্সমেন্টের প্রয়োজন না। এটা না করলে বাজারকে সঠিকপথে রাখা যাবে না। পেনাল্টির ব্যাপারে দু’টি অপশন, একটি আমাদের পেনাল্টির টাকা আপনি দিয়ে দেবেন। অন্যটি হলো টাকা না দিয়ে আপনি আদালতে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। তবে পেনাল্টির টাকা একদিন এক সময় আদায় হবেই।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্বাস বা কনফিডেন্স কখন কোন বিষয়ে কার উপর হয়, সেটা কেউ বুকে হাত দিয়ে বলতে পারেন না। এই মার্কেটের ব্যাপারে কোনো ধরনের নেতিবাচক ভূমিকা বিএসইসির নেই। আমরা চাই মার্কেট ভালো হোক।’
বিএসইসি কমিশনার ফারজানা লালারুখ বলেন, ‘পুঁজিবাজার উন্নয়নে বিএসইসি ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।’
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মীর মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর বিষয়ে অনুসন্ধানে সাংবাদিকদের রিপোর্ট আমাদের বড় সহায়তা করে। অনেক সময় সাংবাদিকরা ব্যক্তিগতভাবেও তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন। আজকের এই প্রশিক্ষণ তাদের আরো কার্যকর রিপোর্টিংয়ে সহায়তা করবে বলে মনে করি।’
সিএমজেএফ সভাপতি গোলাম সামদানী ভূঁইয়া বিএসইসিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বাজার উন্নয়নে সাংবাদিকদের দক্ষতা বাড়াতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ অত্যন্ত সময়োপযোগী।
কমিশনের সহকারী পরিচালক শহীদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বিএসইসিয়ের কমিশনার ফারজানা লালারুখ, সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক মীর মোশাররফ হোসেন, ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিষ্টস ফোরামের (সিএমজেএম) সভাপতি এসএম গোলাম সামদানী ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক আবু আলী।



