এনবিআর চেয়ারম্যান

আসন্ন বাজেটে ব্যবসাবান্ধব কর-কাঠামো রাখা হবে

যারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, যাদের অ্যাকাউন্টস মেনটেইন করতে অসুবিধা হয়। আপনাদের জন্য আমরা একটা সফটওয়্যার করব। আপনারা শুধু ওখানে রিসিট অ্যান্ড পেমেন্ট অ্যান্ট্রি দিবেন। ওইখান থেকে আপনার ভ্যাট রিটার্ন অটোমেটিক তৈরি হয়ে যাবে। আপনার কোনো ভ্যাট কনসালটেন্ট লাগবে না, কিছু লাগবে না।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
প্রাক-বাজেট আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান মো: আবদুর রহমান খান
প্রাক-বাজেট আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান মো: আবদুর রহমান খান |ইন্টারনেট

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো: আবদুর রহমান খান বলেছেন, সরকারের পক্ষ থেকে রাজস্ব বাড়ানোর চাপ আছে। তবে আসন্ন বাজেটে ব্যবসাবান্ধব কর-কাঠামো রাখা হবে।

আজ রোববার এনবিআর কার্যালয়ে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (এমচ্যাম), বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিসহ (বিসিসিআই) ছয়টি ব্যবসায়ী সংগঠনের সাথে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ কথা জানানো তিনি।

চেয়ারম্যান মো: আবদুর রহমান খান বলেন, আগামীবার এই ভ্যাট আইনে ব্যাপক পরিবর্তন করব। আপনারা একটু খেয়াল রাখবেন। আর রেজিস্ট্রেশন তো এখন খুবই সহজ। ভ্যাটের রেজিস্ট্রেশন অনলাইনে নেয়া যায়। আর আগামী বছর থেকে আমরা অনলাইন রিটার্ন সাবমিট করা শতভাগ বাধ্যতামূলক করব। রিটার্ন দেয়ার পরে আপনার যাতে ভ্যাট অফিসে কোনোভাবেই যাওয়া না লাগে, তার জন্য যত রকমের আইন-কানুন বা বিধি-বিধান দরকার, আমরা সব করব।

তিনি আরো বলেন, আপনারা যারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, যাদের অ্যাকাউন্টস মেনটেইন করতে অসুবিধা হয়। আপনাদের জন্য আমরা একটা সফটওয়্যার করব। আপনারা শুধু ওখানে রিসিট অ্যান্ড পেমেন্ট অ্যান্ট্রি দিবেন। ওইখান থেকে আপনার ভ্যাট রিটার্ন অটোমেটিক তৈরি হয়ে যাবে। আপনার কোনো ভ্যাট কনসালটেন্ট লাগবে না, কিছু লাগবে না।

‘আমরা আপনাদের, বিশেষ করে যারা স্মল- যাদের নিজস্ব সফটওয়্যার নাই, যাদের নিজের অ্যাকাউনটেন্ট নাই, তাদের জন্য আমরা এটা সহজ করে দেবো। এটা আমরা বড় উদ্যোগ নিচ্ছি এবং এভাবে আমরা ভ্যাটের নেটওয়ার্কটা বড় করব।’

যারা ব্যবসা করে সবাইকে ভ্যাট দিতে হবে উল্লেখ করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে, ভ্যাট সবাইকে দিতে হবে। সার্ভিস সেক্টরের জন্য আমরা কোনো ডিফারেন্ট ভ্যাট রেট করতে পারি কি না সেজন্য চেষ্টা করছি। এটা করলে ওভারঅল কী ইফেক্ট হয়, সেটা নিয়ে আমরা কাজকর্ম করছি। কিন্তু ভ্যাট সবাইকে দিতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের যে রেকর্ড, এটা অত্যন্ত হতাশাজনক। আমি যখন এনবিআর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিই, মাত্র পাঁচ লাখ ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন ছিল। আমরা অনেক জোরাজুরি করে কয়েক দফা রেজিস্ট্রেশন ড্রাইভ টেপ দিয়ে এটাকে আট লাখে উন্নীত করতে পেরেছি।

অগ্রিম কর রিফান্ডের কথা জানান এনবিআর চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, যদি কোনো ব্যক্তির আয় অনুযায়ী কর বেশি কেটে নেয়া হয়, তা সরাসরি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ফেরত দেয়া হবে।

আলোচনায় অংশ নেন আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (এমচ্যাম), বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিসহ (বিসিসিআই), ইন্ডিয়া বাংলাদেশ চেম্বার, বাংলাদেশ উইমেন চেম্বারসহ ছয়টি ব্যবসায়ী সংগঠন। আলোচনায় উঠে আসে সার চার্জ, টার্নওভার কর, ট্রেড লাইসেন্স ফি, কাস্টমস জটিলতা, শুল্ক ও কর বিষয়ক নানা প্রস্তাবনা।

প্রাক বাজেট আলোচনায় আমেরিকান চেম্বারের সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ বলেন, ‘নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে, যাতে বিনিয়োগকারীরা উৎসাহিত হয়।’ পাশাপাশি জটিলতা কমাতে কাস্টমসের আধুনিকায়ন করার দাবিও জানানো হয়।

আর নারীদের সর্বনিম্ন আয়কর সীমা সাড়ে চার লাখ টাকা নির্ধারণের দাবি জানায় বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার। পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে কর সহায়ক নীতিমালা কাঠামো তৈরির দাবিও জানানো হয়।

সূত্র : বাসস