‘কারেন্ট যেমন যাইতেছে, আবার টাকাও বেশি কাটতেছে। বিদ্যুতের কার্ড ভরেই সারতে পারি না। অনেক টাকা নিতেছে।’
সাভারে পল্লী বিদ্যুতের একজন গ্রাহক রোজিনা বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে এভাবেই তার প্রতিক্রিয়া জানান। রোজিনার মতো আরো বেশ কয়েকজন ভোক্তার অভিযোগ, দিনে-রাতে বিদ্যুৎ সঙ্কট অনেক বেশি।
লোডশেডিং আর বিদ্যুৎ বিল দুটোই বেড়েছে বলে অভিযোগ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার বিদ্যুতের গ্রাহকদের।
বিশেষ করে গ্রামে লোডশেডিংয়ের অভিযোগ সবচেয়ে বেশি। কিছু এলাকায় ১০-১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হয়েছে বা এখনো হচ্ছে।
বাংলাদেশে বিদ্যুতের মোট পাঁচ কোটির বেশি গ্রাহকের মধ্যে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা তিন কোটি ৭১ লাখ। সেই হিসেবে লোডশেডিংয়ের কারণে গ্রামে-গঞ্জে-মফস্বলের সাধারণ গ্রাহকরাই বিদ্যুতের বেশি ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন।
বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতির কারণে আবাসিক গ্রাহকদের ভোগান্তির পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং রফতানিমুখী শিল্প কারখানাগুলোতেও সঙ্কট দেখা দিয়েছে।
শিল্পখাতে গ্যাস ব্যবহার করে অনেক প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ উৎপাদন করে কারখানা চালু রাখে, যেটি ক্যাভটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট নামে পরিচিত। গ্যাস সঙ্কটের কারণে শিল্পকারাখানায় বিদ্যুতের ঘাটতিও এবছর তুলনামূলক বেড়েছে বলে জানাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
গাজীপুরের একজন কারখানা মালিক বলেন, আমরা ডিজেল জেনারেটর দিয়ে চালাচ্ছি। সেটার কারণে আমাদের প্রোডাকশন কস্ট অনেক বেড়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ বাধ্য হচ্ছে প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে। বিদ্যুতের কারণে প্রোডাকশন ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমে গেছে। অনেকের ডিজেল জেনারেটর দিয়ে চালাতে হিমশিম খাচ্ছে, কারণে এখানে খরচ অনেক বেশি।
তিনি জানান, বিদ্যুতের কারণে বিদেশি ক্রেতাদের থেকে অর্ডার পেলেও সঠিক সময় কাজ শেষ করতে পারছে না অনেকে, তারফলে চাপ বাড়ছে। বায়ার এয়ার শিপমেন্টের কথা বলছে। অথবা বলছে- যদি তোমরা সময়মত শিপমেন্ট না দিতে পারো আমরা অন্যত্র অর্ডারটা নিয়ে যাবো।
এদিকে, দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ের কারণে এ মাসে দেশের কিছু জায়গায় বিদ্যুৎ অফিসে গ্রাহকরা হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। যে কারণে গ্রিড, উপকেন্দ্র ও অফিসগুলোতে নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ প্রধানের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন।
এছাড়া, নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ কিংবা প্রশাসনের কাছে পৃথক আবেদন করেছে গোপালগঞ্জ, নীলফামারীসহ বিভিন্ন জেলার বিদ্যুৎ অফিস।
বিদ্যুৎ সক্ষমতা এবং সঙ্কট
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ক্যাপটিভ পাওয়ারসহ ৩৩ হাজার মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য হলো নেপাল ও ভারত থেকে আমদানিসহ গ্রিড পর্যায়ে সক্ষমতা ২৯ হাজার ৫৯৩ মেগাওয়াট।
বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত এক দিনে সর্বোচ্চ উৎপাদনের রেকর্ড হয়েছে চলতি বছর মে মাসে ১৭ হাজার ২০১ মেগাওয়াট।
তবে উৎপাদনে রেকর্ড করার সাথে এবছর লোডশেডিং বা ঘাটতির দিক থেকেও গত কয়েক বছরের মধ্যে রেকর্ড তৈরি হয়েছে।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অফ বাংলাদেশ বা পিজিসিবি'র তথ্যে গত ১০ই অগাস্ট একদিনে সর্বোচ্চ তিন হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়।
বিদ্যুৎ বিভাগের হিসেবে এ বছর গরমে সর্বোচ্চ চাহিদা ১৮ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
সরকার বলছে, প্রাথমিক জ্বালানির সঙ্কটে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এবছর এলএনজি আমদানিতে সঙ্কটের কারণে পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন হয়েছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিদ্যুৎ-জ্বালানির পরিস্থিতির উন্নতি করতে তাদের অন্তত দুই বছর সময় লাগবে। বিদ্যুৎ খাতের দশ বছর মেয়াদি একটি কর্মপরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপন করা হবে।
বাংলাদেশে মারাত্মক বিদ্যুৎ সঙ্কটের কারণে বিগত সরকার জরুরি ভিত্তিতে তেলভিত্তিক, আমদানি করা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল। বিশেষ আইন প্রণয়ন করে বিনা দরপত্রে বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগও নেয় তারা।
দেশে শতভাগ গ্রামে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনার কথা বলা হয় ওই সরকারের সময়। স্বল্প-মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করে বিদ্যুৎ খাতে উন্নয়নে নানা প্রচারও তারা করে গেছে।
বাস্তবতা হলো– উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হলেও গ্যাস উত্তোলন বাড়েনি; কয়লা উত্তোলন করা হয়নি, যার ফলে আমদানি নির্ভরতা বেড়েছে। বড় সমস্যা তৈরি হয় ব্যয়বহুল প্রাথমিক জ্বালানি এবং আমদানি নির্ভরতা বেড়ে যাওয়ার কারণে।
এছাড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো সময়মতো উৎপাদনে আসেনি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগে ব্যর্থতার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে।
এছাড়া উৎপাদন সক্ষমতা থাকা বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জ বা কেন্দ্র ভাড়া বাবদ বিপুল পরিমাণ খরচ বেড়েছে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. গোলাম মোয়াজ্জেম বিদ্যুৎ সঙ্কট নিয়ে বলেন, ‘বিদ্যুতের সঙ্কট ক্রমাগত জটিল থেকে জটিলতর হয়েছে।’
বিগত সরকারের সময় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র দ্রুত নির্মাণ করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন পরিকল্পনা যথাসময়ে সম্পন্ন করতে পারেনি। শেষ দিকে এসে ডলার ও জ্বালানি সঙ্কটে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিয়েছিল।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মোটামুটি পরিস্থিতি সামাল দিয়ে গেলেও দায়দেনা ও ভর্তুকি বেড়েছে। নতুন সরকার এসে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং আমদানি অবকাঠামোর যান্ত্রিক ত্রুটি মিলে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে।

কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ ক্যাব-এর জ্বালানি উপদেষ্টা ড. এম শামসুল আলম বিদ্যুৎ খাতের পরিকল্পনা, নীতি ও দাম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন।
তার বিশ্লেষণ হলো– বাংলাদেশে বিদ্যুৎ খাতে বিগত সরকার ব্যয়বহুল জ্বালানি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনকে গুরুত্ব দিয়েছে। সংস্কার পরিকল্পনা অনুযায়ী জ্বালানি বৈচিত্র্য নিশ্চিত করতে পারেনি, গ্যাসের আমদানি বেড়েছে এবং নবায়নযোগ্য খাত থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে পারেনি।
অতীতে একদিকে ব্যয়বহুল জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করেছে। ওদিকে চাহিদার তুলনায় বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা তৈরি করে ফেলেছে। আর সেটা করতে গিয়ে আইন পরিবর্তন করেছে, প্রতিযোগিতা শূন্য করে ফেলেছে। খুব কস্টলি বিনিয়োগ আনা হয়েছে। ব্যাপকহারে লুটপাটের ক্ষেত্র কাঠামোগতভাবে তৈরি হয়েছে, যে কাঠামো এখন পর্যন্ত ভাঙা হয়নি এবং ভাঙার কথা সরকারের মাথায় আছে কি না তা কোনোভাবেই দেখা যাচ্ছে না।
শামসুল আলমের বিশ্লেষণে কাঠামোগত দিক থেকেও বিদ্যুৎ খাত সরকারের সেবাখাতের জায়গা থেকে সরে মুনাফাভিত্তিক একটা খাতে পরিণত হয়েছে, যা সঙ্কট বৃদ্ধি করেছে।
তার মতে, সরকার জনগণকে সেবা দেবে সেটা কস্ট প্রাইসে, বিদ্যুৎখাতে সরকারকে মুনাফা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
মুনাফা সব জায়গা হচ্ছে। বিতরণে হচ্ছে, সঞ্চালনে হচ্ছে, উৎপাদনে হচ্ছে, ফুয়েল সাপ্লাইয়ে হচ্ছে। সরকার সব জায়গা থেকে মুনাফা খাচ্ছে। সরকার যেখানে যা কাজ করছে সমস্ত জায়গা থেকে ন্যায্য ব্যয় এবং প্রকৃত ব্যয় অপেক্ষা কস্ট প্লাস রেভিনিউ আর্ন করে। দ্বিতীয়ত হচ্ছে এ খাতটাকে সেবা খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যে পরিমাণ জ্বালানি দরকার বিদ্যুতের জন্য সে পরিমাণে জ্বালানি সরবরাহ করার মতো পরিস্থিতি আমাদের নেই। যে বিকল্প উৎসগুলো রয়েছে সেটার ব্যাপারে তড়িৎ উদ্যোগ নেয়ার ক্ষেত্রেও সরকার বিভিন্ন বাধার মুখে পড়ছে।

নতুন সরকার বিভিন্ন সময় বিদ্যুৎ জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের সাথে মতবিনিয়ম করছে জানিয়ে ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, ‘ভোক্তাদের পক্ষ থেকে সরকারকে সমস্যা মোকাবিলায় কিছু পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আমাদের কয়লাভিত্তিক যে ক্ষমতা আছে সেটা পুরোপুরি ব্যবহার হচ্ছে না। সেটা বাড়াতে হবে। আমরা তেলটা বাতিল করতে দিতে বলেছি। আমরা পারমাণবিক থেকে বিদ্যুৎ আনতে বলেছি। নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিশ পার্সেন্টের কথা বলেছি এবং এফিসিয়েন্সি বাড়াতে বলেছি। এভাবে পুরো জিনিসটাকে মোকাবিলা করতে বলেছি। আর বলেছি যে, প্রয়োজনে আরো বেশি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাড়ানো হোক। বাড়িয়ে এই যে জ্বালানি নিরাপত্তার নামে যে ফাঁদ তৈরি করে আমাদেরকে লুন্ঠন করা হয়েছে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়, এর থেকে বেরিয়ে আসার জন্য এরকম কিছু বৈপ্লবিক পরিবর্তন সরকারকে আনতে হবে।’
সমস্যা সমাধানে সরকারের করণীয় প্রসঙ্গে সিপিডির খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘ধীরে ধীরে আমাদের আসলে গ্যাস ভিত্তিক সিস্টেম থেকে বেরিয়ে এসে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা ইলেকট্রিসিটি বেইজ সিস্টেমের দিকে যাওয়া-সেটা একটা সমাধান। যেমন গ্যাস ভিত্তিক বয়লারের যায়গায় ইলেকট্রিক বয়লারে শিফট করা প্রয়োজন। একইভাবে ডিজেলের ব্যবহার কমিয়ে দিয়ে ইলেকট্রিক ভিইকেলে যাওয়া। একইভাবে সোলার বেজ ইরিগেশনে গিয়ে ডিজেল সেচ থেকে সরে আসা। বাসাবাড়িতে রান্না হচ্ছে, সেটাতে গ্যাসের বদলে ইলেকট্রিক চুলায় রান্নায় যাওয়া।’
বিদ্যুৎ আমদানি
বিদ্যুৎ সমস্যা মোকাবিলার জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখেন বিশ্লেষকরা।
সিপিডির গবেষক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘আমরা যেটা আমদানি করি সেটা মোট বিদ্যুৎ চাহিদার নয় শতাংশের মতো। সেটা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের যদি এই মুহূর্তে রিজিওনাল গ্রিডটি সক্রিয় থাকতো এবং আরো বেশি পরিমাণে ক্যাপাসিটি সম্পন্ন হতো, তাহলে কিন্তু আমরা ভারতে আরো যেসমস্ত উদ্বৃত্ব বিদ্যুৎ অন্যান্য যায়গায় রয়েছে, সেটা এই ঘাটতি পূরণের জন্য কিন্তু আমরা জরুরি ভিত্তিতে নিতে পারতাম। সুতরাং রিজিওনাল এই গ্রিডটি আগামীতে আমাদের চিন্তা করতে হবে।’
ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি প্রসঙ্গে এম শামসুল আলম আদানি চুক্তির সমালোচনা করে বলেন, ‘এই চুক্তি সংশোধন করে ট্যারিফ কমাতে হবে।’
তবে গ্রিড ব্যবহার করে আমদানির পক্ষে তিনি।
তিনি বলেন, ‘আদানির সাথে নেগোসিয়েশন করে যদি ট্যারিফ না কমায় তাহলে ওই চুক্তি বাতিল করে বিদ্যুৎ আমদানি করা যাবে না। কিন্তু জিটুজি চুক্তির আওতায় সরকার যেটা আমদানি করছে এবং নেপাল বা ভুটান থেকে জলবিদ্যুতের সুযোগ আছে সরকার সে উদ্যোগ নিয়েছে কিছু এরই মধ্যে আমদানি শুরু হয়েছে। পাশাপাশি মিয়ানমার থেকে আনার সুযোগ আছে গ্যাস বা বিদ্যৎ । এমনকি তেলও আনার সুযোগ আছে কয়লাও আনার সুযোগ আছে ইন্ডিয়া থেকে। যদি কমপিটিটিভ প্রাইসে সেখান থেকে আনার সুযোগ থাকে, আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তা সংরক্ষণের স্বার্থে তা আনার বিষয়টি অবশ্যই জ্বালানি মিক্সের যে বৈচিত্রের কথা বলছি সে প্রশ্নে অবশ্যই সরকারকে বিবেচনা করতে হবে।’
সূত্র : বিবিসি



