দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এবং চলমান গ্যাস সঙ্কট কাটাতে ভারত ও মালয়েশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ এলপিজি (তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস) নিয়ে আরো দু’টি বড় জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছেছে। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এলপিজি ও এলএনজি নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে চলতি মাসেই আরো কমপক্ষে চারটি জাহাজ বাংলাদেশে আসার অপেক্ষায় রয়েছে।
আজ রোববার চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, গত শনিবার (১১ এপ্রিল) দিবাগত রাতে মালয়েশিয়া থেকে এলপিজিবাহী ‘ডিএল লিলি’ এবং ভারত থেকে ‘গ্যাস ক্যারেজ’ নামে দু’টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে নোঙর করেছে।
বর্তমানে জাহাজ দু’টি বন্দরের চার্লি ও ব্রাভো পয়েন্টে অবস্থান করছে। সেখান থেকে লাইটারেজ জাহাজের মাধ্যমে গ্যাস খালাসের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করা হবে বলে বন্দর সূত্রে জানা গেছে।
চলমান আমদানি প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় আজ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ‘কংটং’ নামের একটি বড় জাহাজ এলএনজি নিয়ে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এছাড়া আগামীকাল সোমবার মালয়েশিয়া থেকে এলপিজি নিয়ে ‘পল’ নামে আরো একটি জাহাজের বন্দরে আসার কথা রয়েছে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় আমদানির এই প্রবাহ আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১৫ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়া থেকে ‘মারান গ্যাস হাইড্রা’ নামের একটি এলএনজিবাহী জাহাজ এবং ১৮ এপ্রিল ‘লবিটো’ নামের আরো একটি জাহাজ দেশে পৌঁছাবে। পর্যায়ক্রমে এই জাহাজগুলো বন্দরে ভিড়লে দেশের বাজারে এলপিজি ও শিল্প কারখানার গ্যাস সঙ্কট অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তজনা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। এমন কঠিন সময়ে বৈশ্বিক জ্বালানি সঙ্কটের প্রভাব মোকাবিলা করতে বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন দেশ থেকে বিকল্প ব্যবস্থায় তেল ও গ্যাস আমদানি অব্যাহত রেখেছে। মূলত দেশীয় উৎপাদন এবং আমদানির মধ্যে সমন্বয় করে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতের চাকা সচল রাখাই সরকারের বর্তমান লক্ষ্য। এই বিপুল পরিমাণ গ্যাস আমদানি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র : বাসস



