বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে দেশীয় সম্পদ আহরণের ওপর জোর দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিক সহায়তার প্রবাহ কমছে এবং প্রচলিত দাতাদের অগ্রাধিকার অভ্যন্তরীণ দিকে সরে যচ্ছে। ১৯৭২ সালে আমাদের বাজেটের ১২ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত বিদেশী সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হতো। আজ আমরা সেই নির্ভরশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পেরেছি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের সম্পদ আহরণের ক্ষমতা আরো বাড়াতে হবে, যা পুরোপুরি সম্ভব।’
আজ বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে কেয়ার বাংলাদেশ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
গর্ভনর বলেন, সরকার কিছু উদ্যোগ নিচ্ছে, তবে ভেতর থেকেই প্রতিরোধের মুখে পড়তে হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘উদাহরণস্বরূপ, সম্প্রতি আমরা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে এক ধর্মঘটের প্রভাব দেখেছি, যেখানে কর্মকর্তারা মূলত স্থিতাবস্থাকে বজায় রাখতে চেয়েছেন।’
তিনি আরো বলেন, স্থিতাবস্থা কোনো বিকল্প নয়। আমাদের এই স্থিতাবস্থা ভেঙে আরো বেশি রাজস্ব আহরণের দিকে এগোতে হবে ।
গর্ভনর বলেন, ‘ভারত যদি তাদের জিডিপির ১৮-২০ শতাংশ রাজস্ব সংগ্রহ করতে পারে, যদি নেপাল ২০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে, তবে আমরা কেন বর্তমান স্তরে আটকে থাকব?’
তিনি বলেন, ‘এই প্রশ্নগুলো আমাদের নিজেদেরই করতে হবে। এটি অবশ্যই সম্ভব এবং আমি অর্থায়নের ঘাটতি নিয়ে খুব বেশি উদ্বিগ্ন নই।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘এটি শুধু সরকারি অর্থায়নের বিষয় নয়। আমাদের অবশ্যই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় ধরনের বেসরকারি পুঁজির শক্তিকেও কাজে লাগাতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে। শিল্পোন্নত দেশগুলো তাদের নিজেদের সমস্যা নিয়ে ব্যস্ত। আমাদের নিজেদের পথ তৈরি করতে হবে, আর পূর্ব এশিয়া আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে যে এটি সম্ভব।’
সূত্র : বাসস



