বিদেশী বিনিয়োগকারীদের শেয়ার হস্তান্তর ও বিক্রয়লব্ধ অর্থ দেশে প্রত্যাবর্তন বা রিপ্যাট্রিয়েশন প্রক্রিয়া সহজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এ বিষয়ে একটি নতুন মাস্টার সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যার মাধ্যমে বেসরকারি ও পাবলিক লিমিটেড, কিন্তু শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয়, এমন কোম্পানিগুলোতে নন-রেসিডেন্ট বিনিয়োগকারীদের শেয়ার হস্তান্তর এবং বিক্রয়মূল্য প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া আরো সহজ ও স্বচ্ছ করা হয়েছে।
এই পরিপ্রেক্ষিতে, বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল ইআইডি সার্কুলার নম্বর ১ জারি করে এই মাস্টার সার্কুলার প্রকাশ করেছে। সার্কুলারে ২০১৮ ও ২০২০ সালে জারি করা আগের নির্দেশনাগুলো একত্র করে হালনাগাদ করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনায় বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রক্রিয়াটি আরো পূর্বানুমানযোগ্য, কার্যকর ও স্বচ্ছ করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক সুরক্ষাও বজায় রাখা হয়েছে।
নতুন সার্কুলারে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোর ক্ষমতা বৃদ্ধি, লেনদেনের সীমা বাড়ানো, মূল্যায়ন ও প্রতিবেদন পদ্ধতি সহজ করা, দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের সময়সীমা নির্ধারণ এবং ব্যাংকের অভ্যন্তরে মূল্যায়ন ও অর্থ প্রত্যাবর্তন সংক্রান্ত আবেদন পর্যালোচনার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের শেয়ার হস্তান্তর ও অর্থ প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া সহজ করতে বিডা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে একটি উচ্চপর্যায়ের ক্যাপিটাল রিপ্যাট্রিয়েশন কমিটি গঠন করা হয়। বিডার নির্বাহী সদস্য নাহিয়ান রহমান রচির নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটি গত বছরের ১৯ নভেম্বর সংস্কার প্যাকেজটি চূড়ান্ত করে।
এ প্রসঙ্গে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, ‘বিদেশী বিনিয়োগের জন্য ভালো পরিবেশ তখনই তৈরি হয়, যখন বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের প্রতিটি ধাপে আত্মবিশ্বাসের সাথে এগোতে পারেন।’
তিনি বলেন, অনুমোদনের জটিলতা কমিয়ে আনা, বিক্রয়লব্ধ অর্থ সহজে দেশে ফেরত নেয়ার সুযোগ দেয়া, মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় নথিপত্রের প্রক্রিয়া সরল করা এবং বিনিয়োগ থেকে প্রস্থানের ধাপগুলো সহজ করার মাধ্যমে বাংলাদেশ সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছে। এ ধরনের উদ্যোগই বিদেশী বিনিয়োগের জন্য একটি ভালো ও আস্থার পরিবেশ গড়ে তোলার মূল ভিত্তি।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন ছাড়াই অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো শেয়ার হস্তান্তর ও অর্থ প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবে। এক কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের ক্ষেত্রে স্বাধীন মূল্যায়ন ছাড়াই ক্রেতা ও বিক্রেতার যৌথ ঘোষণার ভিত্তিতে লেনদেন সম্পন্ন করা যাবে। নির্ধারিত মূল্যায়ন পদ্ধতি অনুসরণ করে এডি ব্যাংকগুলো এখন ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন প্রক্রিয়া করতে পারবে।
এছাড়া, অডিট করা আর্থিক বিবরণীর ভিত্তিতে নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) অনুযায়ী চুক্তির মূল্য নির্ধারিত হলে অনেক ক্ষেত্রেই এডি ব্যাংক সরাসরি লেনদেন প্রক্রিয়া করতে পারবে। মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এনএভি, বাজারমূল্য বা ডিসকাউন্টেড ক্যাশ ফ্লো (ডিসিএফ) পদ্ধতি বহাল রাখা হয়েছে।
নতুন সার্কুলারে প্রক্রিয়া সম্পন্নের নির্দিষ্ট সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র সম্পূর্ণ থাকলে শেয়ার হস্তান্তর ৪৫ দিনের মধ্যে এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ প্রত্যাবর্তন পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি, প্রতিটি এডি ব্যাংককে জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনার নেতৃত্বে অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন করে এসব মূল্যায়ন ও অর্থ প্রত্যাবর্তন সংক্রান্ত আবেদন পর্যালোচনা করতে হবে।
এডি ব্যাংকগুলো যেসব লেনদেন প্রক্রিয়া করবে, সেগুলোর বিষয়ে ১৪ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। এসব পদক্ষেপের ফলে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং বাংলাদেশের সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিবেশ আরো উন্নত হবে। বাসস



