কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই পৃথিবীর অর্থনৈতিক পরিমণ্ডলে এক মহা ওলটপালট ঘটাতে চলেছে। এআই-এর এই বিশাল অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতে এখনই কোমর বেঁধে নামার জন্য বিশ্বনেতাদের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন একদল বিশেষজ্ঞ। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির ডিজিটাল ইকোনমি ল্যাবের উদ্যোগে সম্প্রতি একটি খোলা চিঠি দেওয়া হয়েছে। আল জাজিরা জানিয়েছে, ১৬ জন নোবেল বিজয়ীসহ ২০০ জনেরও বেশি অর্থনীতিবিদ এবং এআই গবেষক এই চিঠিতে সই করেছেন।
গত ৭ জুলাই জেনেভায় জাতিসঙ্ঘের ‘এআই ফর গুড গ্লোবাল সামিট’-এ চীনের তৈরি হিউম্যানয়েড ও ডগ-লাইক রোবট প্রদর্শন করা হয়, যা এই আসন্ন রূপান্তরেরই আভাস। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দশকে এআই শিল্প বিপ্লবের চেয়েও বড় কিন্তু অতি দ্রুতগতির পরিবর্তন আনবে। এতে জীবনযাত্রার মান বাড়লেও বড় আকারে কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।
ইতোমধ্যেই আমাজন এআই ব্যবহারের কারণে ১৪ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সদ্য গ্র্যাজুয়েটদের চাকরির বাজার সংকুচিত হয়েছে। এই বিপর্যয় রুখতে বিশেষজ্ঞরা সরকারকে কঠোর নিয়মকানুন ও প্রতিষ্ঠান গড়ার তাগিদ দিয়েছেন, যাতে এআই মানুষের পরিপূরক হয়। জাতিসঙ্ঘও সতর্ক করেছে, এআই ধনী ও দরিদ্র দেশের বৈষম্য আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই বৈশ্বিক প্রভাব কেবল দুটি পক্ষ বা দেশের মধ্যকার কোনো দ্বিপক্ষীয় বিষয় নয়, এটি গোটা মানবজাতির এক বড় সংকট। আর এই রূপান্তর এত দ্রুত ঘটছে যে, সব ঝুঁকি পুরোপুরি টের পাওয়ার জন্য হাত গুটিয়ে বসে থাকার সুযোগ নেই। যখন সবকিছু নিশ্চিত হওয়া যাবে, ততক্ষণে পরিস্থিতি মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে এবং যা ক্ষতি হওয়ার তা হয়েই যাবে।



