রফতানি ১৫০ বিলিয়ন ডলারে নেয়া অসম্ভব কিছু নয় : বাণিজ্যমন্ত্রী

সঠিক নীতিগত সহায়তা ও বৈচিত্র্যকরণ করা গেলে দেশের রফতানি আয় ১৫০ বিলিয়ন ডলারে নেয়া অসম্ভব কিছু নয়। একই সাথে তৈরি পোশাকের বাইরে পাট, প্লাস্টিক ও সেমিকন্ডাক্টরের মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে এই প্রকল্পের আওতায় উন্নীত করার রোডম্যাপ তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

অনলাইন প্রতিবেদক
সভায় বক্তব্য বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির
সভায় বক্তব্য বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির |ইন্টারনেট

অর্থনৈতিক সব সূচকে যোগ্যতা অর্জন করায় বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ এখন অবধারিত। তবে উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় রফতানি সক্ষমতা বাড়াতে এখন থেকেই হাত-পা ও কোমর শক্ত করার তাগিদ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, সঠিক নীতিগত সহায়তা ও বৈচিত্র্যকরণ করা গেলে দেশের রফতানি আয় ১৫০ বিলিয়ন ডলারে নেয়া অসম্ভব কিছু নয়। একই সাথে তৈরি পোশাকের বাইরে পাট, প্লাস্টিক ও সেমিকন্ডাক্টরের মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে এই প্রকল্পের আওতায় উন্নীত করার রোডম্যাপ তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘খসড়া উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) বিষয়ক পরামর্শ সভায় তিনি একথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আজকে না হোক, এই নভেম্বর না হোক, তিন বছর পরে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন তো করবই। এটা একটা অবধারিত বিষয়, আমাদের করতেই হবে। কারণ উত্তরণের সবকয়টি শর্ত বা থ্রেশহোল্ড আমরা কোয়ালিফাই করেছি। তবে একবার সেই উত্তরণটা ঘটলে যে সমস্ত প্রতিবন্ধকতা আমরা মোকাবেলা করব, সেটির জন্য হাত, পা, কোমর শক্ত করতে হবে। সোজা বাংলায় বললে- যাতে আবার আমরা পূর্বের টিয়ারে (Tier) ফেরত না আসি, আমাদের পতন না হয়। কোনো একটা টিয়ারে আটকে থাকার জন্য এই উত্তরণ প্রক্রিয়া তৈরি করা হয় নাই।’

রফতানি সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের রফতানি আয় ৫০ থেকে ৫৫ বিলিয়ন ডলারে আটকে আছে। তবে সঠিক পরিকল্পনা, নীতিগত সহায়তা এবং তৈরি পোশাকের পাশাপাশি আরও ৫-৭টি সম্ভাবনাময় খাতকে দাঁড় করানো গেলে এই আয় ১০০ থেকে ১৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা অসম্ভব কোনো কাজ নয়। দেশের জিডিপি ও কর-জিডিপি অনুপাত (যা বর্তমানে ৭ শতাংশের নিচে) নিয়ে বিভ্রান্তি ও সীমাবদ্ধতা দূর করার তাগিদও দেন তিনি।

রফতানি বহুমুখীকরণে ২০১৭ সালে শুরু হওয়া ইসিফোরজে (EC4J) প্রকল্পের ধীরগতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিগত ১৫ বছরে তৎকালীন সরকারের নেয়া প্রায় প্রতিটা প্রজেক্টেরই একটি সাধারণ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ছিল ‘টাইম ওভাররান’ বা সময় অপচয় করা। আমরা এর কারণ খুঁজে বের করেছি।’ জমি অধিগ্রহণের জটিলতা এবং প্রকল্প এলাকায় কিছু মানুষের রাতারাতি কৃত্রিম স্থাপনা তৈরি করে তিন গুণ উচ্চমূল্য হাতিয়ে নেয়ার প্রবণতাকে তিনি জাতীয় জীবনের অন্যতম বটলনেক ও দুর্বলতা হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আরো জানান, ইসিফোরজে প্রকল্পের ভৌত অবকাঠামো শেষ হলেও মেশিনারিজ কেনা বাকি ছিল। তড়িঘড়ি করে মানহীন পণ্য না কিনে বিশ্বব্যাংকের সাথে আলোচনার মাধ্যমে গুণগত মান বজায় রেখে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক যৌথ অর্থায়নে এই কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। প্রকল্পের অধীনে থাকা লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং লেদার খাতের আধুনিকায়নে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংস্থাকে দায়িত্ব দেয়া হবে। পাশাপাশি আগামীতে এই প্রকল্পের আওতায় প্লাস্টিক ও সেমিকন্ডাক্টরের মতো উচ্চ প্রযুক্তির খাতগুলোকেও যুক্ত করা হবে।

সম্প্রতি নিজের চীন সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, চীনের জিয়াংনান ইউনিভার্সিটির সাথে ৩০০০ টেক্সটাইল মিলের সরাসরি কোলাবোরেশন রয়েছে, যা তাদের প্রযুক্তিগত সমস্যার তাৎক্ষণিক বৈজ্ঞানিক সমাধান দেয়। একই মডেলে বাংলাদেশেও চীনের সহযোগিতায় একটি জুট বা পাট গবেষণা ল্যাব ও স্টাডি সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফরে এ সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এর মাধ্যমে কাঁচা পাট রফতানির চেয়ে বহুমুখী ‘ভ্যালু অ্যাডেড’ সুতা ও কাপড় তৈরি করে কয়েক গুণ বেশি আয় করা সম্ভব হবে।

ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনগুলোর উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ী ও সরকারের মধ্যে সেতু হিসেবে কাজ করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। যেকোনো যৌক্তিক সমস্যা নিয়ে যোগাযোগ করা হলে মন্ত্রণালয় সর্বাত্মক নীতিগত ও লজিস্টিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত।