মাঠ প্রশাসনে কর্মরত প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সুযোগ বাড়াতে ৯ম গ্রেড এবং তদূর্ধ্ব ৭ম ও ৮ম গ্রেডে একাধিক পদ সৃষ্টির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মাঠপ্রশাসন প্রশাসনিক কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতি। এ দাবিতে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দেশের আট বিভাগীয় কমিশনার ও ৬৪ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে সংগঠনটি।
স্মারকলিপিতে মাঠ প্রশাসনের বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনে কর্মরত অভিজ্ঞ ও দক্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে পদোন্নতির সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে একটি সুস্পষ্ট পদ সোপান (Career Planning) গঠনের ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়। সংগঠনটির মতে, এতে মাঠ প্রশাসনের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরো গতিশীল ও জনবান্ধব হবে।
সংগঠনটির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মজীবন পরিকল্পনা বিষয়ক কর্মশালা এবং জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০২৩-এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। কর্মশালার সিদ্ধান্তে মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পদোন্নতির জন্য কাঠামোগত সুযোগ তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, মাঠ প্রশাসনের বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে কর্মরত প্রশাসনিক কর্মকর্তারা সরকারের নীতি বাস্তবায়ন, স্থানীয় সরকার কার্যক্রমে সহযোগিতা, জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন, ভূমি ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সামাজিক নিরাপত্তা, খাদ্য ও অন্যান্য সরকারি কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের কর্মজীবনে স্থবিরতা তৈরি হচ্ছে।
সংগঠনটির প্রস্তাবিত পদ কাঠামোয় বর্তমান পদের পর সিনিয়র সেকশন অফিসার, সেকশন অফিসার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং সহকারী/উপ-সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন ধাপে পদ সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে। এসব পদে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পদোন্নতির সুযোগ তৈরির প্রস্তাব করা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সুযোগ সৃষ্টি হলে মাঠ প্রশাসনে দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও কাজের গতি বাড়বে। একই সাথে কর্মকর্তাদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা তৈরি হবে এবং কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি পাবে।
বাংলাদেশ মাঠপ্রশাসন প্রশাসনিক কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এস এম জাহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে সরকারের কাছে এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার প্রত্যাশা জানানো হয়েছে। স্মারকলিপির সাথে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মশালার প্রতিবেদন এবং জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০২৩-এর কার্যবিবরণী সংযুক্ত করা হয়।



