চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া বলেছেন, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নতুন দিগন্ত তৈরি হবে এটি আমাদের প্রত্যাশা। সেদিন বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে শুধু একটি ক্ষমতার চেয়ারের পালাবদল নয়, সে নির্বাচন হবে আগামীর বাংলাদেশ কিভাবে পরিচালিত হবে, আগামীর বাংলাদেশে আমি এবং আপনি নাগরিক হিসেবে কতটুকু নিরাপদ থাকবো, আগামীর বাংলাদেশে আপনার সন্তান কতটুকু নিরাপদ থাকবে তার একটি রূপরেখা। এই নির্বাচন আপনি আমি একা করা সম্ভব নয়। এই নির্বাচনে সর্বস্তরের সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন, সকলের আন্তরিকতা প্রয়োজন। আমরা যারা এদেশের নাগরিক আমাদের সকলের এই রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব আছে, রাষ্ট্রের প্রতি কর্তব্য আছে, আমরা এই রাষ্ট্রে বসবাস করে রাষ্ট্রের সকল সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে থাকি। কিন্তু এবার সময় এসেছে রাষ্ট্রের প্রতি আমাদের কিছু প্রতিদান দেয়ার।’
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম-১৪ ও ১৫ সংসদীয় আসনের নির্বাচন উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অংশীজনদের সাথে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে নানান প্রশ্ন থাকলেও একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন পুরোপুরি সম্ভব। বিশ্বের বহু দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও সেসব নির্বাচন নিয়ে তেমন প্রশ্ন ওঠে না। অথচ আমাদের নির্বাচনকে হেলাফেলা করা হয়। এই মানসিকতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একটি বড় জাতীয় দায়িত্ব। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং অংশীজনদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেয়া সম্ভব।’
অনুষ্ঠানে ৯ ফিল্ড রেজিমেন্টে আর্টিলারি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল মাহমুদুন নবী বলেন, ‘আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে চেষ্টা করা হচ্ছে। এজন্য আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।’
চটগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমদ খান সন্ত্রাসীদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘নির্বাচনের সময় কোনোভাবেই পেশীশক্তির উত্থান হতে দেয়া হবে না। কেউ যদি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়াতে চায়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা কঠোর হাতে দমন করবে।’
তিনি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইলেক্টোরাল এনকোয়ারি ও এডজুডিকেশন কমিটি চট্টগ্রাম-১৫ আসনের চেয়ারম্যান ও যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ রূপন কুমার দাশ, চট্টগ্রাম স্থানীয় সরকারের উপ পরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান, লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: সাইফুল ইসলাম, চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: রাজিব হোসেন, সাতকানিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামছুজ্জামান, সাতকানিয়া সেনা ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন এস এম সাকিবুজ্জামান শামীম পারভেজ, সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম ও লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রিকল চাকমাসহ বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা।



