বামপন্থীদের ‘বর্ণচোরা’ বললেন ঢাবি শিবির সভাপতি

‘আজকের মব সৃষ্টির ফ্রেমিংটা ১৯৭১ বনাম ২০২৪ না। এটা মূলত উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিচার বহির্ভূত হত্যার বৈধতা দাঁড় করিয়ে আবারও আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার অপচেষ্টা। শাহবাগ ও বাকশালকে নতুন করে ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্র।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংবাদ সম্মেলনে ঢাবি শিবির সভাপতি এস এম ফরহাদ
সংবাদ সম্মেলনে ঢাবি শিবির সভাপতি এস এম ফরহাদ |সংগৃহীত

বামপন্থীদের ‘বর্ণচোরা’ বলে অভিহিত করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি এস এম ফরহাদ বলেছেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিচার বহির্ভূত হত্যার বৈধতা দাঁড় করিয়ে বামপন্থীরা আবারো আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার অপচেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, ‘আজকের মব সৃষ্টির ফ্রেমিংটা ১৯৭১ বনাম ২০২৪ না। এটা মূলত উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিচার বহির্ভূত হত্যার বৈধতা দাঁড় করিয়ে আবারও আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার অপচেষ্টা। শাহবাগ ও বাকশালকে নতুন করে ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্র।’

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রাতে টিএসসিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

এস এম ফরহাদ বলেন, ‘শাহবাগ কায়েম করে আমাদেরকে দিনে দিনে হত্যা করা হয়েছে, গুম করা হয়েছে, ক্রসফায়ার দেয়া হয়েছে, আয়না ঘরে রাখা হয়েছে। আমরা এতে হতাশ হইনি। আমরা শাহবাগ ও বাকশালের বিরুদ্ধে ছিলাম। সামনে আবার শাহবাগ কায়েম করে আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্রে আমরা শঙ্কিত নই। শিক্ষার্থীদেরকে সাথে নিয়ে আমরা এর বিরুদ্ধে থাকব ইনশাআল্লাহ।’

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার রাজনীতি টিকিয়ে রাখতে বর্ণচোরা ষড়যন্ত্র করছে বামরা। মতিউর রহমান নিজামীসহ অন্যদের ফাঁসির আদেশ একটি বিচারিক হত্যা। এর দায় শুধু হাসিনার নয়, শাহবাগের ফ্যাসিবাদীদের দোসরদেরও।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিভিন্ন ট্যাগ বা তকমা দিয়ে বামদের এই আচরণ আজকের নয়। অনেক দিন ধরে চলে আসছে। তারা আজো শেখ হাসিনার ষড়যন্ত্র টিকিয়ে রাখতে বর্ণচোরার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে ফরহাদ বলেন, ‘আজকের আয়োজনের বিরুদ্ধে যারা বিক্ষোভ করেছেন এবং মব তৈরি করার জন্য ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন তারা প্রত্যেকেই বিভিন্ন বাম ছাত্র সংগঠনের পোস্টধারী। তারা হয়ত বিভিন্ন সংগঠনের সভাপতি-সেক্রেটারি। যারা ১০-১২টা সংগঠন থেকে ২০-২৫ জন নিয়ে টিএসসিতে এসেছে।’

এর আগে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে জুলাই বিপ্লবের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ঢাবি ছাত্রশিবির আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘আমরাই ৩৬ জুলাই : আমরা থামব না’ শীর্ষক বর্ণাঢ্য ও ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজনে জামায়াত নেতা গোলাম আজম, মতিউর রহমান নিজামী, দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী, আলী আহসান মুজাহিদ, মীর কাশেম আলী, কামরুজ্জামান চৌধুরী ও বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছবি বামপন্থীদের তোপের মুখে সরিয়ে নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ করতে থাকে শিবির ও বাম সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা।