জনদুর্ভোগ ও ব্যর্থতা ঢাকতে সরকার বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে: গোলাম পরওয়ার

সঙ্কট সমাধানে দীর্ঘ সময়ের কথা বলে জনগণকে শান্ত রাখা যাবে না। যেকোনো সরকার জরুরি ভিত্তিতে জনগণের দুর্ভোগ কমাতে নানা পদক্ষেপ নিতে পারে। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ, ভুতুড়ে বিল বন্ধ এবং কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জের নামে অর্থ অপচয় বন্ধ করতে হবে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার
রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার |সংগৃহীত

চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সঙ্কট নিরসন এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি অভিযোগ করেছেন, জনগণের দুর্ভোগ ও নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে সরকার বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

গোলাম পরওয়ার বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস হয়েছে। সরকার চাইলে জরুরি খাতের অর্থ ব্যয় করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সঙ্কটের তাৎক্ষণিক সমাধানে উদ্যোগ নিতে পারে। সঙ্কট সমাধানে ১০ বছর সময় লাগবে—এ ধরনের অজুহাত না দেখিয়ে জরুরি ভিত্তিতে জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

তিনি বলেন, সঙ্কট সমাধানে দীর্ঘ সময়ের কথা বলে জনগণকে শান্ত রাখা যাবে না। যেকোনো সরকার জরুরি ভিত্তিতে জনগণের দুর্ভোগ কমাতে নানা পদক্ষেপ নিতে পারে। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ, ভুতুড়ে বিল বন্ধ এবং কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জের নামে অর্থ অপচয় বন্ধ করতে হবে।

জামায়াতের এই নেতা অভিযোগ করেন, সরকার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজারকে লুটপাটের ক্ষেত্র বানিয়ে রেখেছে। এসব বন্ধ করে হাজার হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব। কিন্তু সেদিকে সরকারের নজর নেই। তাদের নজর বিরোধী দলের আন্দোলনের দিকে। গণভোটের গণরায় কার্যকর না করে উপায় নেই। এ কারণে জনগণের দুর্ভোগ ও নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে সরকার বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

বিদ্যুৎ সঙ্কট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের বিভিন্ন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কেউ দুই বছর, আবার কেউ ১০ বছর সময়ের কথা বলছেন। তাদের বক্তব্যের মধ্যেই কোনো সামঞ্জস্য নেই। আগে নিজেদের মধ্যে বিষয়টি মীমাংসা করে নেয়া উচিত।

তিনি বলেন, জামায়াত প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সঙ্কট সমাধানে একটি সমন্বিত প্রস্তাব দিয়েছে। সরকারের সক্ষমতা থাকলে সেটি বাস্তবায়ন করে জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, আমরা সরকারকে ব্যর্থ দেখতে চাই না। কারণ জ্বালানি সঙ্কটে সরকার ব্যর্থ হলে শুধু সরকারই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, দেশও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সেই মা, যিনি সকালে চুলা জ্বালাতে পারেন না; সেই শ্রমিক, যার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়; এবং সেই উদ্যোক্তা, যিনি সময়মতো পণ্য উৎপাদন বা রপ্তানি করতে পারেন না। এর প্রভাব পড়বে দেশের অর্থনীতিতে।

তিনি বলেন, সংসদে হাজার হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস হয়েছে। এখন জনগণের স্বার্থে সেই অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় করতে হবে। ব্যর্থ সরকারগুলো সবসময় জনগণের দুর্ভোগ আড়াল করে নিজেদের গণবিচ্ছিন্নতা থেকে রক্ষা পেতে অপ্রাসঙ্গিক বিষয় সামনে এনে বিরোধী দলের ওপর দায় চাপাতে চায়।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মুহাম্মদ জাহিদুর রহমান এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এমপিসহ দলটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।