ছাত্রশিবির সভাপতি

ইসলাম ও ইসলামী নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করার নীলনকশার অংশ ছিল শাপলা গণহত্যা

শাপলা চত্বরের সেই নৃশংস ঘটনার পর থেকে আলেম-ওলামাদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে অন্ধকার কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছিল।

নিজস্ব প্রতিবেদক
শাপলা চত্বর গণহত্যা দিবস উপলক্ষে শাপলা চত্বরে ছাত্রশিবিরের মানববন্ধনে বক্তব্য রাখছেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম
শাপলা চত্বর গণহত্যা দিবস উপলক্ষে শাপলা চত্বরে ছাত্রশিবিরের মানববন্ধনে বক্তব্য রাখছেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম বলেছেন, ‘ফ্যাসিবাদী সরকার ইসলাম ও ইসলামী নেতৃবৃন্দকে নিশ্চিহ্ন করার নীলনকশার অংশ হিসেবে শাপলা চত্বরে গণহত্যা চালিয়েছিল। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব সেই ফ্যাসিবাদকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে।’

তিনি অবিলম্বে এই গণহত্যার শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং অপরাধীদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর মতিঝিলে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার কর্তৃক সংঘটিত গণহত্যার বিচারের দাবিতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা ছাত্রশিবির আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিকেল সাড়ে ৩টা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাফেজ দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি হাফেজ আনোয়ার হোসাইনের কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে মানববন্ধন শুরু হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসেন, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল জব্বার, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম।

কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম আরো বলেন, শাপলা চত্বরের সেই নৃশংস ঘটনার পর থেকে আলেম-ওলামাদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে অন্ধকার কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। রিমান্ডের নামে আলেমদের ওপর যে অমানবিক ও অবর্ণনীয় নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা ইতিহাসের এক কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে।

তিনি উল্লেখ করেন, শুধুমাত্র শাপলা চত্বরেই নয়, বরং এই ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে তৎকালীন সরকার নারায়ণগঞ্জ, বাগেরহাট ও হাটহাজারীতে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে আরো ৩৪ জন নিরীহ মানুষকে রাজপথে হত্যা করেছে। আলেম-ওলামাদের কণ্ঠরোধ করতে ১ লাখ ৮৮ হাজার মানুষকে আসামি করে অসংখ্য হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যার ফলে অনেককে দীর্ঘ ৫ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত বিনাদোষে জেল খাটতে হয়েছে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ প্রসঙ্গে ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, ৫ মে রাতের সেই বিভীষিকাময় সত্যকে বিশ্ববাসীর কাছ থেকে গোপন করার লক্ষ্যে দিগন্ত টেলিভিশন, ইসলামিক টেলিভিশন ও চ্যানেল ওয়ানসহ একাধিক জনপ্রিয় গণমাধ্যম বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল।

তিনি বর্তমান সরকারের কাছে শাপলা চত্বরের ঘটনার শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং প্রকৃত লাশের সংখ্যা জাতির সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান। একইসাথে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে যথাযথ আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং এই গণহত্যার পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারী প্রত্যেকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, শাহজালাল ও তিতুমীরের এই বাংলাদেশে কোনো নাস্তিক্যবাদী বা ইসলামবিদ্বেষী অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে দেয়া হবে না। যারা নবী মুহাম্মদ সা: ও ইসলাম নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চায়, তাদের রুখে দিতে অবিলম্বে ‘ব্লাসফেমি আইন’ প্রণয়ন করতে হবে।

তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, জনগণের ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে আর কোনো ছিনিমিনি বরদাশত করা হবে না।

২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিল শাপলা চত্বরে শান্তিপ্রিয় আলেম-ওলামাদের ওপর পরিচালিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং এর নেপথ্যে থাকা কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচনের দাবি জানিয়েছেন মানববন্ধনের বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম। তিনি বলেন, বর্বরোচিত এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন যে, তৎকালীন র‍্যাব কর্মকর্তা এবং বর্তমানে উচ্চপদে আসীন কিছু সামরিক কর্মকর্তা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সরাসরি নির্দেশদাতার ভূমিকায় ছিলেন।

মাওলানা আব্দুল হালিম স্মরণ করিয়ে দেন যে, ৫ মে’র ঘটনার পরের দিনই বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও হরতালের সিদ্ধান্ত হয়েছিল এবং তৎকালীন বিরোধী দল হিসেবে তারা রাজপথে সোচ্চার ছিলেন। তাই শাপলা গণহত্যার বিচার বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

কর্মসূচিতে অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর পূর্বের সভাপতি ও ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ ও শাপলা শহীদ খালেদ সাইফুল্লাহর বড় ভাই আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারিয়েট সদস্য ও বিভিন্ন পর্যায়ের সহস্রাধিক নেতাকর্মী।