পল্লবীতে জামায়াতের সুধী সমাবেশ

অনির্বাচিত প্রশাসনের কারণেই ডিএনসিসির যথাযথ উন্নয়ন হচ্ছে না : সেলিম উদ্দিন

মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, অবিলম্বে নির্বাচন দিয়ে নগর প্রশাসনের দায়িত্ব জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধির কাছে হস্তান্তরের কোনো বিকল্প নেই। জনগণ জামায়াতকে নগর প্রশাসনের দায়িত্ব দিলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নগরীর সব সমস্যার সমাধান করা হবে। ডিএনসিসিকে সর্বাধনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন নগরীতে পরিণত করা হবে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে (ডিএনসিসি) মেয়র পদপ্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, ডিএনসিসি নানা সমস্যায় জর্জরিত। কিন্তু অনির্বাচিত প্রশাসনের কারণে সেসব সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। চাপিয়ে দেয়া দলীয় প্রশাসকের জবাবদিহিতা রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের কাছে। তাই নগর প্রশাসন জনগণের কল্যাণে কাজ করতে পারছে না।

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর পল্লবীর একটি মিলনায়তনে পল্লবী থানা উত্তর আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জনকল্যাণ, জবাবদিহিতা ও ইনসাফের ভিত্তিতে নাগরিক সুবিধাসমৃদ্ধ আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও

বাসযোগ্য ঢাকা উত্তর সিটি গড়ার প্রত্যয়ে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, অবিলম্বে নির্বাচন দিয়ে নগর প্রশাসনের দায়িত্ব জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধির কাছে হস্তান্তরের কোনো বিকল্প নেই। জনগণ জামায়াতকে নগর প্রশাসনের দায়িত্ব দিলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নগরীর সব সমস্যার সমাধান করা হবে। ডিএনসিসিকে সর্বাধনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন নগরীতে পরিণত করা হবে। খানা-খন্দক, রাস্তাঘাটের সংস্কার, খেলার মাঠ ও সুস্থ্যধারার বিনোদন কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। ডিএনসিসিকে আধুনিক নগরীতে পরিণত করতে আমরা সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সমর্থন চাই।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশক অতিবাহিত হলেও আমাদের স্বপ্নগুলো অনেক ক্ষেত্রেই অধরা রয়ে গেছে। স্বাধীনতা পরবর্তী সরকারগুলো দেশে সুশাসন উপহার দিতে পারেনি। দেশকে কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করতে ব্যর্থতার জন্য মানুষ আজও উপেক্ষিত ও অধিকার বঞ্চিত।

তিনি আরো বলেন, দেশে আইনের শাসন না থাকায় প্রতিটি ক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে। একই সাথে আশঙ্কাজনকভাবে অপরাধ প্রবণতা বেড়েছে। ক্ষমতাসীনদের ধারাবাহিক ব্যর্থতার কারণেই দেশ

আজ দুর্নীতি ও লুটপাটের অভ্যয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধের অনুপস্থিতির কারণে দেশের আইশৃঙ্খলা পরিস্থিতি একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ে নেমে গেছে।

জামায়াতের আন্দোলন-সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশকে কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করে ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জামায়াত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গণমানুষের মুক্তি ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় জামায়াত দীর্ঘ পরিসরে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা ন্যায়-ইনসাফের ভিত্তিতে দেশকে কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চাই। দেশকে কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করার আন্দোলনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

পল্লবী থানা উত্তর থানা আমির সাইফুল কাদেরের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন

ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য কর্নেল আব্দুল বাতেন (অব:)। সমাবেশে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য নাসির উদ্দীন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালাম, পল্লবী দক্ষিণ থানা জামায়াতের আমির আশরাফুল আলম, রূপনগর থানা আমির আবু হানিফ ও দুই নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মোজাম্মেল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।