বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে সিটি করপোরেশনসহ যশোরবাসীর সব ন্যায্য দাবি পূরণ করা হবে। উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য করা হবে না। কোনো জেলায় অনেক উন্নয়ন, আবার কোথাও হচ্ছে না এমনটি হবে না।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে যশোর ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, একটি দল বলছে, তারা ক্ষমতায় গেলে নাকি নারীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেবে। আবার তারাই নারীদের গায়ে হাত তুলছে। তার মানে ‘একদিকে ফ্যামিলি কার্ড, আরেকদিকে গায়ে হাত।’ তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন,‘কেউ যদি কোনো মা-বোনের সম্মানহানি করে, বেইজ্জতি করে তাহলে দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে।’
তিনি বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা আপনাদের আদর্শ প্রচার করুন, আমরা আমাদের আদর্শ প্রচার করি। আমরা যদি নির্বাচনি কোনো আচরণবিধি লঙ্ঘন করি তাহলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করুন। তারা যাচাই-বাছাই করে যদি আমাদের অপরাধ পায় তাহলে শাস্তি দিলে আমরা তা মাথা পেতে নেবো। কিন্তু আপনারা কেন হুমকি ধামকি দেবেন, আমাদের নারীকর্মৗদের গায়ে হাত তুলবেন। এটি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে নতুন রাজনীতি, জনগণের রাজনীতি বাস্তবায়ন করতে সবাইকে হ্যাঁ ভোট দিতে হবে। হ্যাঁ ভোট বিজয়ী হলে বাংলাদেশ বিজয়ী হবে।
প্রশাসনের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা নির্দিষ্ট কোনো দলের হয়ে কাজ না করে জনগণের পক্ষে কাজ করুন।
উপস্থিত লাখো মানুষের উদ্দেশ্যে বলেন, সিন্ডিকেট-চাঁদাবাজির হাত থেকে রক্ষা পেতে জামায়াতকে ভোট দিন। বিগত ১৭ বছর জামায়াতের ওপর যে নির্যাতন হয়েছে তা বর্ণনীয়। তারপরও তাদেরকে পাত্তাই দেয়নি। সুযোগ পেলেই মানুষের কাছে ছুটে গিয়েছি। যতটুকু পেরেছি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। ফ্যাসিস্টকে কোনোদিন তোয়াজ করিনি। ৫ আগস্টের পর আমরা একজনকেও মিথ্যা মামলায় অন্তর্ভূক্ত করিনি। অথচ একটি দল থেকে সারাদেশে হাজার হাজার মামলা দিয়ে বাণিজ্য করেছে। যা নিন্দনীয়।
জামায়াত আমির বলেন, যে দল তার নেতাকর্মীদের সামলাতে পারে না তারা দেশ সামলাবেন কিভাবে। জামায়াতের নেতাকর্মীরা সুশৃঙ্খল। এ কারণে তারা শৃঙ্খলভাবে দেশ চালাতে পারবে। কেউ যদি দেশকে নতুন করে ফ্যাসিবাদের দিকে নিতে চায় তাহলে আল্লাহর ওপর ভরসা করে রুখে দেয়া হবে। একটি দল বলে-তারাই নাকি গণতন্ত্রের উদ্ধারকারী। অথচ তারাই এখন গণতন্ত্রের চর্চা করতে দিচ্ছে না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে বেকারভাতা দিতে চায় না, বেকারদের দক্ষ করে কাজ দিতে চায়; যাতে তারা দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে। মা-বোনদের ঘর থেকে কর্মস্থল সব জায়গায় সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। সব ধর্মের মানুষ পছন্দমতো তাদের পোশাক পরতে পারবে। কেউ ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে চাইলে তা প্রতিরোধ করা হবে।
জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক মোবারক হোসাইন ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
যশোর জেলা আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে এ সময় ছয়টি আসনে ১০ দলীয় ঐক্যের প্রার্থীরা বক্তৃতা করেন। শেষে জামায়াত আমির তাদের হাতে দাঁড়িপাল্লা তুলে দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
যশোরের জনসভা শেষ করে তিনি সাতক্ষীরার উদ্দেশে রওনা দেন। সেখান থেকে দুপুর ২টায় খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে আয়োজিত জনসভায় বক্তৃতা করবেন। এরপর সন্ধ্যায় বাগেরহাটের জনসভায় অংশ নেবেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।



