সংসদে আহত জুলাইযোদ্ধাদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর কুশল বিনিময়

এনসিপি নেতাদের সাথে বাগ্বিতণ্ডা

প্রধানমন্ত্রী গ্যালারি ত্যাগ করার পর অধিবেশন কক্ষ থেকেই আহতদের সাথে কথা বলতে এগিয়ে যান এনসিপির নেতারা।

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান |ফাইল ছবি

সংসদ অধিবেশনে বিরতিকালে ভিআইপি গ্যালারিতে অবস্থানরত আহত জুলাইযোদ্ধাদের সাথে কুশল বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী চলে যাওয়ার পর তাদের দিকে এগিয়ে গিয়ে কুশল বিনিময় করেন এনসিপি নেতারা। তাদের সাথে আহত জুলাইযোদ্ধাদের তীব্র বাগ্বিতণ্ডায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

সরকারের সংশ্লিষ্টদের আমন্ত্রণে জুলাইযোদ্ধারা অধিবেশনের গ্যালারিতে অংশ নেন বলে জানা যায়।

রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেল ৬টার দিকে অধিবেশনে শব্দ বিভ্রাট দেখা দিলে মাগরিবের নামাজসহ প্রায় ৪০ মিনিটের বিরতি ঘোষণা করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। বিরতির সময় ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে উঠে স্পিকারের বাম পাশের ভিআইপি গ্যালারিতে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে উপস্থিত আহত জুলাইযোদ্ধাদের সাথে প্রায় ২০ মিনিট ধরে তিনি কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।

প্রধানমন্ত্রী গ্যালারি ত্যাগ করার পর অধিবেশন কক্ষ থেকেই আহতদের সাথে কথা বলতে এগিয়ে যান এনসিপির নেতারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ, আতিক মুজাহিদ ও হান্নান মাসুদ। তারা জুলাইযোদ্ধাদের খোঁজখবর নিতে শুরু করলে এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।

প্রায় ২০ মিনিট ধরে চলা এই তর্কের মধ্যে আহত জুলাইযোদ্ধাদের কেউ কেউ অভিযোগ করে বলেন, ‘আপনারা জুলাই রক্তের সাথে বেঈমানি করছেন।’

এই পরিস্থিতিতে এনসিপি নেতাদের একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনারা বিএনপি বা জামায়াত নন, জুলাইযোদ্ধা—এটাই আপনাদের বড় পরিচয় হওয়া উচিত। আমরা তো সবসময় আপনাদের অধিকার আদায়ে কাজ করেছি এবং করছি।’

উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা চলতেই থাকে। এক পর্যায়ে এনসিপি নেতারা সেখান থেকে সরে যান। তবে হান্নান মাসুদের সাথে কয়েকজন জুলাইযোদ্ধার বাগ্বিতণ্ডা চলতেই থাকে। পরে সংসদের কর্মকর্তা ও নিরাপত্তাকর্মীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং পরিবেশ স্বাভাবিক হয়।

মাগরিব নামাজের পর প্রায় ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট পর সংসদের অধিবেশন ফের শুরু হয়।