গণভোটের বিষয়টি সংসদের, আদালতের নয় : জামায়াত

অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, বাংলাদেশে যাতে ফ্যাসিবাদী শাসন আর ফিরে না আসে, এজন্য সংস্কারের প্রস্তাবগুলো সর্বসম্মতভাবে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে পাস হয়েছে। এটা এখন জাতীয় সংসদের বিষয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি প্রেস ব্রিফিং
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি প্রেস ব্রিফিং |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, গণভোটের বিষয়টি সংসদের হলেও এটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে আদালতে নিয়ে আসা হয়েছে।

গতকাল সোমবার রাতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এবং সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এ্যাডভোকেট শিশির মো: মনির।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, বাংলাদেশে যাতে ফ্যাসিবাদী শাসন আর ফিরে না আসে, এজন্য সংস্কারের প্রস্তাবগুলো সর্বসম্মতভাবে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে পাস হয়েছে। এটা এখন জাতীয় সংসদের বিষয়। আগামী ১২ মার্চ জাতীয় সংসদের অধিবেশন বসবে। সেখানে সংসদ সদস্যগণ, যারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন, তারা এ বিষয়টি আলোচনা করবেন। এখন এ বিষয়টি আদালতের কাঁধে রেখে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য যারা চেষ্টা করছেন, আমরা মনে করি সেটা সঠিক নয়। এই প্রেক্ষাপটে আমরা আহ্বান জানাতে চাই যে বিষয়টি জাতীয় সংসদের, তা জাতীয় সংসদ সদস্যদেরই পালন করতে দেয়া উচিত।

তিনি আরো বলেন, অতীতেও জাতীয় সংসদের কিছু বিষয় আদালতের কাঁধে ভর করে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তখন সঙ্কট আরো বেশি ঘনীভূত হয়েছে এবং জাতীয় বিপর্যয় নেমে এসেছে। বিশেষ করে আপনারা জানেন, আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করার কারণেই বিগত ১৬ বছর দেশে ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হয়েছিল।

তিনি বলেন, এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটুক তা আমরা আর দেখতে চাই না। তাই জুলাই জাতীয় সনদের বিষয়টি জাতির সামনে স্পষ্ট হওয়া উচিত। বিষয়টি যেহেতু গণভোটে পাস হয়েছে, তাই আমরা অবিলম্বে এটি কার্যকর দেখতে চাই।

অ্যাডভোকেট শিশির মনির এ বিষয়ে বলেন, আজ সোমবার দু’টি রিট পিটিশনের শুনানি হয়েছে। একটি জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫ এবং সাংবিধানিক সংস্কার সভা গঠন এবং সংসদ সদস্য হিসেবে সংবিধান সংস্কার সভার সপক্ষে কেন সাংবিধানিক ঘোষণা দেয়া হবে না- এই মর্মে একটি রুল চাওয়া হয়েছে। যত দিন পর্যন্ত রুল নিষ্পত্তি না হবে, তত দিন পর্যন্ত একটি নিষেধাজ্ঞা আদেশ চাওয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আরেকটি রিট পিটিশনে গণভোট অধ্যাদেশের ধারায় যেখানে প্রশ্ন দেয়া হয়েছে, সেই প্রশ্ন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫ কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না- এই মর্মে রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। এই রিট পিটিশনে আইন মন্ত্রণালয়, সেক্রেটারি, কেবিনেট ডিভিশন; সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সেক্রেটারির ওপর নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে, যেন এ বিষয়সংক্রান্ত কোনো পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ না করা হয়। এই রিটের ওপর শুনানি হয়েছে।