সরকারের উদ্দেশে মাওলানা জালালুদ্দীন

বিদ্যুৎ তেল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি না করে দুর্নীতি বন্ধ করুন

বক্তারা অবিলম্বে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও দখলবাজি বন্ধ এবং সীমান্তে পুশইন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।

নিজস্ব প্রতিবেদক
বক্তব্য প্রদান করছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ
বক্তব্য প্রদান করছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ |ছবি : নয়া দিগন্ত

বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি এবং সীমান্তে পুশইনের প্রতিবাদে মিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, সরকার যদি বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাস খাতে দুর্নীতি, অপচয় ও চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পারে, তাহলে জনগণের ওপর মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপানোর প্রয়োজন হবে না। অথচ সাধারণ মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছে, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, খুন ও ধর্ষণের মতো ঘটনায় জনমনে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার (৭ জুন) বাদ আসর সংগঠনটির ঢাকা মহানগরীর শাখার উদ্যোগে বায়তুল মুকাররম উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মুকাররম উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, নির্বাচনের পর অল্প সময়ের মধ্যেই তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনকে আরো দুর্বিষহ করে তুলেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনগণ এমনিতেই দিশেহারা। এর ওপর বারবার জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি জনগণের ওপর নতুন বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকার যদি বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাস খাতে দুর্নীতি, অপচয় ও চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পারে, তাহলে জনগণের ওপর মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপানোর প্রয়োজন হবে না। অথচ সাধারণ মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছে, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, খুন ও ধর্ষণের মতো ঘটনায় জনমনে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ইতিহাস সাক্ষী—জনগণের কণ্ঠস্বর উপেক্ষা করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারেনি। তাই জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে খেটে খাওয়া মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, সীমান্তে বাংলাদেশী নাগরিকদের পুশইন ও হয়রানির ঘটনা দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় মর্যাদার জন্য উদ্বেগজনক। এ বিষয়ে সীমান্ত এলাকার জনগণ এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পেশাদারিত্ব প্রশংসার দাবিদার। সরকারকে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে সীমান্তে বাংলাদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

বক্তারা অবিলম্বে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও দখলবাজি বন্ধ এবং সীমান্তে পুশইন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মাওলানা আনোয়ার হোসাইন রাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা কুরবান আলী কাসেম, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুফতি শরাফত হোসাইন, মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা এনামুল হক মুসা, মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী, বায়তুল মাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা জহিরুল ইসলাম, অফিস সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমিন, প্রচার সম্পাদক মাওলানা হাসান জুনাইদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা সানাউল্লাহ আমিনী, উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুর্শিদ সিদ্দিকী, যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা জাহিদুজ্জামান, নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মাওলানা মামুনুর রশিদ, নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি মাওলানা ওবাইদুর রহমান নদভী, গাজীপুর মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক কাজী নিজাম উদ্দিন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সহ-সভাপতি মাওলানা আবুল কাশেম মিয়াজী, সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল্লাহ নাটোরী, অফিস সম্পাদক জনাব এইচ এম খোকন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহ-সভাপতি মুফতি আতিকুল্লাহ, মাওলানা ইমদাদ আশরাফ ও সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা কাজী সালেহ উদ্দিন।