বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, সরকার যদি গণরায় পাশ কাটানোর চেষ্টা করে তবে তা তাদের জন্যই আত্মঘাতি হবে। তিনি সতর্ক করে দেন, জনগণের রায়কে অশ্রদ্ধা করে কোনো টালবাহানা করলে জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধারা আবারো রাজপথে নামবে।
আজ রাজধানী উত্তরার একটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের উত্তরা মডেল থানা আয়োজিত ‘ইউনিট প্রতিনিধি সম্মেলন ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের বিশ্রাম নেয়ার কোনো সুযোগ নেই, বরং ময়দানে সব সময় আপসহীন থেকে আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠায় সকল স্তরের জনশক্তিকে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চালাতে হবে।
থানা আমির অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম খলিলের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য ও উত্তরা জোনের সহকারী জোন পরিচালক মাহবুবুর রহমান।
এছাড়া সেক্রেটারি বদিউজ্জামান বকুলের সঞ্চালনায় সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন থানা নায়েবে আমির হারুনুর রশিদ তারেক, থানা কর্মপরিষদ সদস্য সাদেকুল ইসলাম, ওসাম গনী জুয়েল, জাহাঙ্গীর আলম, মহিউদ্দিন, নাঈম হাসান এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মাহফুজুর রহমান প্রমুখ।
সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘একটি সফল ও কার্যকরী বিপ্লবের জন্য একদল সৎ, যোগ্য ও তাক্বওয়াবান মানুষের প্রয়োজন। জাতির সে আশা-আকাঙ্কা পূরণে জামায়াত দীর্ঘ পরিসরে লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। সে কাজে সফলভাবেই আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছে ইউনিট সংগঠনগুলো। মূলত, ইউনিট সংগঠনও হচ্ছে মূল সংগঠনের সঞ্জিবনী শক্তি। তাই একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ইউগুলোকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে। ইউনিট দায়িত্বশীলদের নেতৃত্বের গুণাবলী সৃষ্টি, বৈষয়িক ও ইসলামী জ্ঞানের পরিধি বাড়ানোর জন্য তাদেরকে অবশ্যই অধ্যবসায়ী হতে হবে। প্রত্যেক ইউনিটকে দাওয়াতের সূতিকাগার ও ইসলামী আন্দোলনের দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত করতে হবে। তাহলেই ইসলামী বিপ্লব অনিবার্য হয়ে উঠবে।’ তিনি দেশকে ন্যায়-ইনসাফভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করতে সকলকে ময়দানে সক্রিয় থাকার আহবান জানান।
তিনি বলেন, ‘জুলাই বিপ্লব ও জুলাই সনদ আমাদের জাতীয় জীবনের অন্যতম অর্জন। এ বিপ্লবই দেশ ও জাতিকে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদ মুক্ত করেছে। এজন্য রাজপথে জীবন দিতে হয়েছে হাজার হাজার তরতাজা প্রাণের। কিন্তু সরকার ক্ষমতায় গিয়ে এখন সবকিছু ভুলে যেতে বসেছে। কারণ, জুলাই বিপ্লবে তাদের উল্লেখযোগ্য কোনো অবদান ছিল না। তারা এখন জুলাই সনদকে পাশ কাটানোর নানা ধরনের অপযুক্তি ও কুযুক্তি উপস্থাপন করছে। যা গণরায়ের প্রতি রীতিমত অশ্রদ্ধা। কিন্তু এসব করে সরকার কোনোভাবেই গণরায় পাশ কাটাতে পারবে না বরং তা তাদের জন্যই তা হবে আত্মঘাতি’। তিনি সরকারকে টালবাহানা বন্ধ করে অবিলম্বে জুলাই সনদ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহবান জানান। অন্যথায় জুলাই যোদ্ধারা জনগণকে সাথে নিয়ে আবারো রাজপথে নামবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি



