আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ

বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তারা, ইসিতে চিঠি

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কী ধরনের ব্যবস্থা নেয় এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়—সেদিকে এখন সংশ্লিষ্ট মহল ও সাধারণ ভোটারদের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপির প্রার্থী হাসান জাফির তুহিনের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তারা
বিএনপির প্রার্থী হাসান জাফির তুহিনের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তারা |ছবি : নয়া দিগন্ত

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর থাকলেও পাবনা-৩ (চাটমোহর, ফরিদপুর ও ভাঙ্গুরা উপজেলা) আসনে সরকারি কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপির প্রার্থী হাসান জাফির তুহিনের পক্ষে বিসিএস (কৃষি) ক্যাডারের একাধিক কর্মকর্তা সরাসরি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব বরাবর চিঠি পাঠিয়েছেন পাবনা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. শাহেদ মোস্তফা।

চিঠির সাথে বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণায় অংশ নেয়া ছয়জন বিসিএস (কৃষি) ক্যাডার কর্মকর্তার নামের তালিকা ও ছবিও সংযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব কর্মকর্তা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাবনায় গিয়ে সরাসরি নির্বাচনী জনসংযোগ, লিফলেট বিতরণ এবং প্রচারণামূলক কার্যক্রমে অংশ নেন।

ইসিতে পাঠানো চিঠিতে জেলা প্রশাসক উল্লেখ করেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের (ডিএই) কতিপয় সরকারি কর্মকর্তা গত ২৩ জানুয়ারি পাবনা-৩ আসনের চাটমোহর উপজেলার কাটাখালী বাজার এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনের সাথে নির্বাচনী জনসংযোগ ও প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেছেন—এ মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগের তালিকায় সংযুক্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন—ডিএইর হর্টিকালচার উইংয়ের উপ-পরিচালক (ফুল ও ফল) মো: নুরে আলম সিদ্দিকী, প্রশাসন ও অর্থ উইংয়ের উপ-পরিচালক মো: মুরাদুল হাসান, উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ আমদানি শাখার অতিরিক্ত উপ-পরিচালক বনি আমিন খান, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক সাব্বির আহমেদ, বালাইনাশক মান নিয়ন্ত্রণ শাখার অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মো: মাজেদুর রহমান এবং ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: আব্দুল মমিন। অভিযোগে সংযুক্ত ছবিতে তাদের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর লিফলেট বিতরণ করতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

বিভিন্ন অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শুধু এই ছয়জন কর্মকর্তা নন—বিসিএস (কৃষি) ক্যাডারের আরো অনেক কর্মকর্তা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিএনপি প্রার্থী হাসান জাফির তুহিনের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পাশাপাশি মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের (এসআরডিআই) সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচির ব্যানারেও এমপি প্রার্থী তুহিনের নাম ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব কর্মসূচিতে ঢাকা ও পাবনার মৃত্তিকা সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতির ছবিরও অভিযোগ পাওয়া যায়।

এছাড়া কৃষি ও মৎস্য সম্পদ মন্ত্রণালয়ভুক্ত বিভিন্ন অধিদফতর ও সংস্থার কর্মকর্তা এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও নিয়মিতভাবে তুহিনের নির্বাচনী এলাকায় উপস্থিত থাকছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মন্তব্য করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান, এমপি প্রার্থী তুহিনের ঘনিষ্টজনেরা কৃষি কর্মকর্তাদের পাবনায় তার নির্বাচনী এলাকায় যেতে বাধ্য করছেন। অনেকে তাকে নির্বাচনী ফান্ডে অর্থও দিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ। কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ভুক্ত সিনিয়র কর্মকর্তারাও তুহিনের সাথে দেখা করে আসছেন।

উল্লেখ্য, বিএনপির প্রার্থী হাসান জাফির তুহিন জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি। তার বিরুদ্ধে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে কৃষি খাতে নিয়োগ, বদলি, পদায়ন ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে, যা নিয়েও আলোচনা চলছে প্রশাসনিক মহলে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সরাসরি নির্বাচনী প্রচারণা বা প্রচার কাজে অংশগ্রহণ স্পষ্টভাবে শৃঙ্খলাভঙ্গের শামিল। এ ধরনের কর্মকাণ্ড নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার পরিপন্থী বলেও মনে করছেন তারা।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কী ধরনের ব্যবস্থা নেয় এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়—সেদিকে এখন সংশ্লিষ্ট মহল ও সাধারণ ভোটারদের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে।