সুখী-সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে, প্রত্যাশা মির্জা ফখরুলের

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমি এমন একটি বাংলাদেশ দেখব যা আমি প্রত্যাশা করছি, যা আমি মনে মনে স্বপ্ন দেখছি। সেটি হচ্ছে, একটি সুখী, সমৃদ্ধ, কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের। যেখানে প্রান্তিক মানুষ, খেটে খাওয়া জনগোষ্ঠি, দিনে আনা দিনে খাওয়া শ্রমজীবীরা দুই বেলা পেট ভরে খেতে পারবে, সুস্থ পরিবেশে তারা বসবাস করতে পারবে, নিরাপদে-নিশ্চিন্তে তারা জীবনযাপন করতে পারবে।’

অনলাইন প্রতিবেদক
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর |ফাইল ছবি

‘সুখী-সমৃদ্ধ একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে’ এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটের আগে টেলিফোনে গণমাধ্যমের কাছে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন তিনি। ভোটের জয়ী হলে তিনি বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হবেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমি এমন একটি বাংলাদেশ দেখব যা আমি প্রত্যাশা করছি, যা আমি মনে মনে স্বপ্ন দেখছি। সেটি হচ্ছে, একটি সুখী, সমৃদ্ধ, কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের। যেখানে প্রান্তিক মানুষ, খেটে খাওয়া জনগোষ্ঠি, দিনে আনা দিনে খাওয়া শ্রমজীবীরা দুই বেলা পেট ভরে খেতে পারবে, সুস্থ পরিবেশে তারা বসবাস করতে পারবে, নিরাপদে-নিশ্চিন্তে তারা জীবনযাপন করতে পারবে। যেখানে আমাদের বিশাল তরুণ গোষ্ঠির কর্মসংস্থান হবে। যেখানে আমাদের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী সমাজ তাদের আত্ম-কর্মসংস্থানের সুযোগ ‍সৃষ্টি হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বুকে আমরা বাংলাদেশীরা একটি আত্মমর্যাদা সম্পন্ন দেশ হিসেবে নিজের পরিচিত করব। আমি বিশ্বাস করি, আমি প্রত্যাশা করি, তারেক রহমানের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ একটি জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র নির্মাণ করতে সক্ষম হবে।’

দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘প্রথমে আমি শুকরিয়া আদায় করতে চাই মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আ‘লামিনের প্রতি। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই দেশবাসীর কাছে যাদের অধিকার আদায়ের দীর্ঘ সংগ্রামে আমি পাশে ছিলাম, সুখে-দুখে তাদের কাছে ছিলাম। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই গণমাধ্যমসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি। সবচেয়ে বেশি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই, বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি। আমি মনে করি, তার নেতৃত্বে ‘প্রত্যাশিত বাংলাদেশ’ এর গন্তব্যে পৌঁছাবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে একটু আবেগ আপ্লুত কণ্ঠে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অনেক কিছু মিস করব। যা স্মরণ করলে আমি আবেগকে ধরে রাখতে পারিনি। দোয়া করি সৃষ্টি কর্তার কাছে সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিরাপদে থাকুন, কল্যাণ মুখী রাষ্ট্র নির্মাণে সকলে সরকারকে সহযোগিতা করুন।’

তিনি বলেন, ‘আজকে এ দিনে আমার সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে, আমরা মন কাঁদায় তিনি হলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কথা মনে আসলেই। এই মহিয়শী নারী নেত্রী প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধার আমি সান্নিধ্য পেয়েছি, স্নেহ পেয়েছি। আজকে আমার ক্ষনে ক্ষনে তার কথা স্মরণে আমার আবেগকে স্পর্শ করে, শিহরণ জাগায়।’

বাম ঘরনোর ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভাসানী ন্যাপের রাজনীতি দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে আসনে। যোগ দেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গঠন করা জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিতে। দীর্ঘ পরিক্রমায় তার ওপরই বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব দেন বেগম খালেদা জিয়া।

২০০১ সালে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন তিনি। এখন তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার সদস্য তিনি।

দুপুর ২টায় ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট শুরু হবে জাতীয় সংসদের সংসদ কক্ষে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দীন এই নির্বাচন পরিচালনা করবেন। ভোট গ্রহণ হবে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত।

বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘দুপুর ২টায় তিনি ভোট দিতে সংসদে যাবেন। ভোট দেবেন।’

কয়েকদিন যাবত হেয়ার রোডের বাস ভবনে মানুষের ভিড় আছে। নিজের নির্বাচনী এলাকা ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরাঞ্চলের নেতা-কর্মীরা এক নজর দেখা করতে ভিড় করেছে এই বাসায়। সকলের সাথে দেখা দিচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং নিজের জন্য সবার কাছে দোয়া চাইছেন তিনি।

গতকাল বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় বিএনপির মহাসচিব স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যোগ দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে এর পরপরই তার আসনটি আসনটি শূণ্য হয়ে যাবে।