লংমার্চে বাধা দিলে সরকার জনগণের আস্থা হারাবে : গোলাম পরওয়ার

লংমার্চ সফল করতে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রস্তুতি বৈঠক

‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনের পর থেকেই জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে বিরোধী দল সংসদের ভেতরে ও বাইরে নিয়মতান্ত্রিক, গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে।’

নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ দলীয় জোটের লংমার্চ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার
১১ দলীয় জোটের লংমার্চ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার |নয়া দিগন্ত

আগামীকাল শনিবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী ১১ দলীয় ঐক্যের শান্তিপূর্ণ লংমার্চে কোনো প্রতিকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা হলে সরকার জনগণের আস্থা হারাবে বলে সতর্ক করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলের সর্ববৃহৎ শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি সফল করতে সরকারকে প্রশাসনিক সহযোগিতা দিতে হবে। আশা করি, সরকার ও সরকারি দলের কেউ এ ধরনের অপরিণামদর্শী পথে পা বাড়াবে না।’

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের সর্বশেষ প্রস্তুতি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন সাবেক এমপি গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেন, ‘সরকার পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ক্ষমতাসীন দলের অধীনে প্রশাসন, আমলাসহ বিভিন্ন সংস্থা রয়েছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনের পর থেকেই জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে বিরোধী দল সংসদের ভেতরে ও বাইরে নিয়মতান্ত্রিক, গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে।’

গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সরকার গঠনের ছয় মাস পার হলেও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। বরং সরকার গণরায় বাস্তবায়ন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।’

গণভোটের গণরায়ে কোনো ‘নোট অব ডিসেন্ট’ নেই দাবি করে তিনি বলেন, ‘গণভোটে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট খারিজ হয়েছে।’

বিরোধীদলীয় এ নেতা বলেন, ‘আমরা সরকার উৎখাতের কোনো আন্দোলন করছি না। জনগণের ও আমাদের দাবি হলো—গণভোটের গণরায় মেনে নিন এবং আমাদের ছয় দফা মেনে নিন।’

জুলাই বিপ্লবের রক্তের বিনিময়ে সবাই মিলে একটি স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে চায় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে পরমতসহিষ্ণুতা রয়েছে—এটি প্রমাণ হওয়া প্রয়োজন মন্তব্য করে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘রাজনৈতিক সহিংসতার নেতিবাচক সংস্কৃতি থেকে সবাইকে বেরিয়ে আসতে হবে।’ এখন পর্যন্ত লংমার্চ ঘিরে কোনো নাশকতার আশঙ্কা করছেন না বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘লংমার্চের বিষয়ে ১১ দল পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) লিখিতভাবে অবহিত করেছে।’ রাস্তার দুই পাশে হাজার হাজার মানুষ লংমার্চকে অভিবাদন জানাবেন বলে তারা আশা করছেন।

লংমার্চের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে গোলাম পরওয়ার জানান, এতে প্রায় দেড় হাজার গাড়ি যুক্ত হবে। সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হবে। পূর্বনির্ধারিত বিভিন্ন পয়েন্টে পথসভা হবে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর ব্রিজসংলগ্ন ট্রাকস্ট্যান্ড, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল ও মীরসরাই রয়েছে। চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে জনসভার মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে।

তিনি বলেন, ‘লংমার্চে অংশগ্রহণকারী ডেলিগেটরা গাড়ি থেকে নেমে পথসভায় যোগ দেবেন না। স্থানীয় শাখাগুলো এসব পথসভার আয়োজন করবে। বহরের প্রতিটি গাড়িতে স্টিকার থাকবে। চলন্ত অবস্থায় কোনো গাড়ি বহরে যুক্ত হতে পারবে না; নতুন গাড়ি বহরের শেষে যুক্ত হবে। সংবাদ প্রচারের জন্য গণমাধ্যমের গাড়িও বহরের সাথে যুক্ত হতে পারবে।’

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে এ লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে।

দেশবাসী ও দলের নেতা-কর্মীদের ধৈর্য, সাহস ও শৃঙ্খলার সাথে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চ সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন ১১ দলের নেতারা।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল মাজেদ আতহারী, এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা: মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ফখরুল ইসলাম, জাগপার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, মোবারক হোসাইন ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনসহ ১১ দলের নেতারা।