বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হককে নিয়ে জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম আজ যে মন্তব্য করেছেন, তার নিন্দা করেছেন দলটির সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ ও মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমাদ। নেতৃদ্বয় স্পিকারের মন্তব্যকে বিভ্রান্তিকর আখ্যা দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এক যৌথ বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় এই নিন্দা জানান। ওই বিবৃতিতে তারা বলেন, পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে মাওলানা মামুনুল হককে সংসদে যেতে দেয়া হয়নি। তিনি সংসদে উপস্থিত না থাকলেও সংসদের ভেতরে তাকে নিয়েই আলোচনা হচ্ছে। এতে প্রতীয়মান হয়, কিছু রাজনৈতিক মহল এখনো তাকে রাজনৈতিকভাবে ভয় পায় এবং ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পুরোনো অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর বয়ান পুনরুজ্জীবিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।
তারা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে দায়ের করা একটি মামলায় আদালতের বিচারে মাওলানা মামুনুল হক নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। এ বিষয়ে দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে এবং তিনি নিজেও একাধিক জাতীয় গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। এরপরও জাতীয় সংসদের স্পিকার কিভাবে সেই ঘটনাকে ‘পরকীয়া’ ও তার ‘জীবনের অন্ধকার অধ্যায়’ বলে আখ্যায়িত করেন এবং বলেন যে, ‘মামুন সাহেব বিষয়টি স্পষ্ট করতে পারেননি’—তা অত্যন্ত বিস্ময়কর, অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক।
নেতৃদ্বয় আরো বলেন, আরো বিস্ময়ের বিষয় হলো—স্পিকার একদিকে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের বক্তব্য কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ (বাদ) করার নির্দেশ দেন, অথচ অন্যদিকে নিজেই একই বিষয়ে অজ্ঞতাপ্রসূত ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করেন। এটি কেবল পরস্পরবিরোধী অবস্থানই নয়; বরং স্পিকারের নিরপেক্ষতা সম্পর্কেও জনমনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
তারা বলেন, আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী নিজেই সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যকে থামিয়ে দিয়েছেন এবং বিরোধী দলের দুইজন সদস্যও এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এরপরও স্পিকারের এমন মন্তব্য তার সাংবিধানিক নিরপেক্ষতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়; বরং একটি নিষ্পত্তিকৃত বিষয়কে নতুন করে প্রশ্নবিদ্ধ করার শামিল।
নেতৃদ্বয় বলেন, কারো অজ্ঞতা কখনো অন্য একজনের চরিত্রের ওপর কালি লেপনের বৈধতা দিতে পারে না। স্পিকারের বক্তব্য এ বিষয়ে তার তথ্যগত অজ্ঞতারই বহিঃপ্রকাশ। তার ভুল তথ্য বা অপর্যাপ্ত ধারণার দায় মাওলানা মামুনুল হকের ওপর চাপিয়ে দেয়া কিংবা তার চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করার কোনো সুযোগ নেই।
তারা আরো বলেন, স্পিকারের আসন জাতির কাছে নিরপেক্ষতা, প্রজ্ঞা, সংযম ও ন্যায়বোধের প্রতীক। সেই আসন থেকে উচ্চারিত প্রতিটি শব্দ জাতির কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই তথ্য-উপাত্ত যাচাই ছাড়া এ ধরনের মন্তব্য শুধু একজন জাতীয় নেতার মর্যাদাকেই ক্ষুণ্ন করে না, বরং জাতীয় সংসদের মর্যাদা এবং স্পিকারের সাংবিধানিক নিরপেক্ষতার ভাবমূর্তিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।
নেতৃদ্বয় অবিলম্বে স্পিকারকে তার বিভ্রান্তিকর ও অনভিপ্রেত মন্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির সামনে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান এবং মাওলানা মামুনুল হকের প্রতি করা অন্যায় মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশের আহ্বান জানান। অন্যথায় জনগণের মধ্যে এ বিষয়ে যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তার রাজনৈতিক ও নৈতিক দায় সম্পূর্ণরূপে স্পিকারকেই বহন করতে হবে।
একইসাথে তারা ফ্যাসিস্ট আমলের মিথ্যা অপপ্রচার ও চরিত্রহননের রাজনীতি পুনরুজ্জীবিত করার সকল অপচেষ্টা থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি আহ্বান জানান এবং সত্য, ন্যায়, আইনের শাসন ও ইসলামী মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।



