সংবাদ সম্মেলন

নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিংসহ বিভিন্ন প্রশ্নের যেসব জবাব দিলেন তারেক রহমান

‘বাংলাদেশের স্বার্থ, বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ আমাদের কাছে প্রথম। বাংলাদেশ এবং দেশের মানুষের স্বার্থ ঠিক রেখে আমরা আমাদের ফরেন পলিসি ডিসাইড করব।’

অনলাইন প্রতিবেদক
সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান
সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান |নয়া দিগন্ত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি জয়ী হওয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলন করেছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ শনিবার বিকেলে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার বক্তব্য উপস্থাপনসহ উপস্থিত দেশী-বিদেশী গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

নিচে কিছু প্রশ্ন ও উত্তর তুলে ধরা হলো :

এক বিদেশী সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বার্থ এবং জনগণের স্বার্থই আমাদের কাছে প্রথম।’

তার সরকারের পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বার্থ, বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ আমাদের কাছে প্রথম। বাংলাদেশ এবং দেশের মানুষের স্বার্থ ঠিক রেখে আমরা আমাদের ফরেন পলিসি ডিসাইড করব।’

‘জনগণকে কনভিন্স করাটাই আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং’

প্রশ্ন : গত সরকার চলে যাওয়ার পর থেকে আপনি বলে আসছেন যে এই নির্বাচনটা খুব সহজ হবে না। এখন নির্বাচনটা হয়ে গেলো… এটা আপনার কাছে সহজ ছিল কিনা আপনার কাছে। আর আপনাকে ২০০’র বেশি আসন পাওয়ার জন্য আপনাকে কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং করতে হলো কিনা?

জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের জনগণকে কনভিন্স করাটাই হচ্ছে আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং। আমাদের যে ইঞ্জিনিয়ারিংটা ছিল জনগণকে আমাদের পক্ষে নিয়ে আসা, সেটাতে আলহামদুলিল্লাহ আমরা সফল হয়েছি।’

‘আর জনগণকে কনভিন্স করে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর পরিবেশের এনসিউর করাটাই ছিল আপনার প্রথম প্রশ্নের উত্তর। অর্থাৎ যেটা আমি বলেছিলাম কঠিন হবে কিনা… যেকোনো ভালো কাজের গোল অ্যাচিভ করতে গেলে তো কষ্ট করতে হবে, কঠিন হবেই।’

ভারত-পাকিস্তান-চীনের সাথে সম্পর্ক

প্রশ্ন : ভারত-পাকিস্তান-চীনের সাথে আপনাদের সম্পর্ক কী হবে?

তারেক রহমান বলেন, ‘আই অলরেডি অ্যানসার দিস। তারপরও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাহেবকে বলতে বলছি।’

স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের পররাষ্ট্রনীতি ইতোমধ্যে আমি বলেছি। দেশের স্বার্থ ঠিক রেখে আমাদের পলিসি হবে।’

সরকারের অগ্রাধিকার

প্রশ্ন : সরকারের অগ্রাধিকার চ্যালেঞ্জগুলো কী?

তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের কাছে কিছু চ্যালেঞ্জ আছে সেগুলো হচ্ছে, অর্থনীতিকে সচল করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা, অবশ্যই আমাদের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আপনি জানেন যে, গত রেজিম তারা দেশে সকল প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ করেছে।’

‘সেজন্য আমরা সুশাসন প্রতিষ্ঠা করব। এগুলো আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছি এবং এগুলোকে উই নিড টু টেকেল।’

যুবকদের জন্য পরিকল্পনা

প্রশ্ন : যুবকদের জন্য আপনার পরিকল্পনা কী?

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা জনগণের রায় পেয়েছি। অবশ্যই যুবকরা আছেন, তবে সমাজের আরো শ্রেণি-পেশার মানুষ আছেন। আমরা সকলের বিষয়ে অ্যাড্রেস করব।’

‘আমরা ইতোমধ্যে আমাদের দলের ম্যানিফেস্টো প্রকাশ করেছি, সেখানে সকল বিষয়ে আমরা অ্যাড্রেস করেছি, যুবকদের জন্য কী করব, আমরা নারীদের জন্য কী করব, আমরা ডিজাইবেল পিপলসের জন্য কী করব সবকিছু সেখানে (ইশতেহারে) আছে।’

সার্ক ও শেখ হাসিনা

প্রশ্ন : দক্ষিণ এশীয় সহযোগিতা ফোরাম (সার্ক) এবং শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিএনপি কী করবে?

তারেক রহমান বলেন, ‘ইয়েস, আপনি জানেন, সার্ক গঠন হয়েছিল বাংলাদেশের উদ্যোগে। স্বাভাবিকভাবে আমরা সার্ক সক্রিয় করতে চাই। এই বিষয়ে আমরা আলাপ করব।’

‘আপনারা দ্বিতীয় প্রশ্ন- এটা ডিপেন্ড অন দা লিগ্যাল প্রসেস অফ কোর্স।’

চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক

তারেক রহমান বলেন, ‘ডেফিনেটলি উই উইল ট্রাই টু প্রেটেক্ট ইন্টারেস্ট অব পিপল অব বাংলাদেশ, আমাদের দেশের স্বার্থ ঠিক রেখে আমরা সকল দেশের সাথে সম্পর্ক গড়ব। আই অ্যাম সিউর মিউচ্যুয়াল ইন্টারেস্ট ইজ দি ফাস্ট প্রায়োরিটি।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ওয়েল, আমাদের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে চাইনিজ বন্ধুরা আছেন। আমরা আশা করি, দুই দেশ সামনের দিনগুলো আরো নিবিড়ভাবে একসাথে কাজ করবে।’

দেশের অর্থনীতি

প্রশ্ন : দেশের অর্থনীতি সচল কিভাবে?

তারেক রহমান বলেন, ‘টু ব্রিং মোর বিজনেসেস অ্যান্ড ক্রিয়েট মোর জবস।’

আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি

প্রশ্ন : আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি রোধ কিভাবে?

তারেক রহমান বলেন, ‘দেখুন, আপনি বোধহয় আইনশৃঙ্খলার কথা বলতে চেয়েছেন। আমরা বলেছি যে, আইন সবার জন্য সমান।’

‘আইন যদি সবার জন্য সমান হয়ে থাকে আমরা ইনশাআল্লাহ সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আসার পরে আমরা চেষ্টা করব, আইন যাতে আইনের মতো করে চলে। সেটাই আমাদের পজিশন।’

আওয়ামী লীগের বিষয়ে অবস্থান

প্রশ্ন : আওয়ামী লীগের বিষয়ে আপনাদের অবস্থান কী হবে?

তারেক রহমান বলেন, ‘বাই অ্যানসিউরিং রুল অব ল।’

লুটপাট ও পাচারকৃত অর্থ ফেরানো

প্রশ্ন : বিগত সরকারের সময়ে লুটপাট ও পাচারকৃত অর্থ ফেরাতে আপনার পরিকল্পনা কী?

তারেক রহমান বলেন, ‘আপনি যদি আমাদের ইশতেহার দেখেন সেখানে আপনার এই প্রশ্নের জবাবগুলো আপনি সুন্দরভাবে পাবেন। আমি ইশতেহারে বলেছি যে, গণতান্ত্রিক অর্থনীতি। অর্থাৎ আমরা এমন একটা অর্থনীতি সূচনা করতে চাই যেখানে সবাই সবার যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে সবাই ব্যবসা-বানিজ্য করতে পারবেন।’

‘কোনো একটা বিশেষ মহলকে আমরা সুযোগ দিতে চাই না।’

এই সংবাদ সম্মেলনের আল-জাজিরা, বিবিসি, এবিসিসহ চীন, ভারত, পাকিস্তান, জাপান, জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা মঞ্চে তারেক রহমানের পাশে ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে তারেক রহমান তার দলকে সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ী করার জন্য দেশবাসীদের অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য দেন। এরপর প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি দেশী-বিদেশী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন।