নির্বাচন হলে যাদের ভরাডুবি হবে তারাই নির্বাচন চাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু।
তিনি বলেন, কিছু খুচরা পার্টি আছে, আমরা জানি তারা নির্বাচনে এলে তাদের কোনো সম্ভাবনা নেই। নির্বাচনে তাদের ভরাডুবি হবে বলেই তারা নির্বাচন চায় না। তারা কিছু মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে, সেগুলোকে নিজের সম্পত্তি মনে করে।
আজ রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে জনতার অধিকার পার্টির উদ্যোগে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
দুদু বলেন, ‘দেশে এখন জবাবদিহিমূলক একটি সরকারের দরকার। এই জবাবদিহিমূলক সরকার পেতে হলে একটি ভালো নির্বাচন দরকার। এই ভালো নির্বাচনের জন্য দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুর খুব কাছাকাছি থেকে ফিরে এসেছেন। তাকে চিকিৎসা পর্যন্ত হাসিনা করতে দেয় নাই। মিথ্যা মামলায় ওনাকে ছয় বছর জেলে রেখেছিল।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন স্বৈরাচারের হাত থেকে মুক্ত হয়েছে। সেই মুক্তি স্থায়ী ভিত্তি দিতে হলে ভালো, সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে হবে এবং জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। গত ১৬ বছর ছিল না, এখনো নেই। তবে সরকার বলেছে, তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন হবে। আমরা অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছি।
ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, আমরা বলেছি এই সরকারকে সমর্থন করছি। অন্যান্য দল করছে। তবে কিছু খুচরা পার্টি আছে, যারা অবৈধভাবে কিছু কিছু মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণ করছে এবং সেটাকে নিজের সম্পত্তি মনে করছে। আমরা জানি, নির্বাচন হলে তাদের সম্ভাবনা তো নেই, ভরাডুবি হবে। সেইজন্যে তারা নির্বাচন চাচ্ছে না। নির্বাচন কে চাইলো আর কে চাইলো না সেদিকে না দেখে, এদেশের শিক্ষার্থী জনতা যে জন্য জীবন বাজি রেখে জীবন দিয়ে স্বৈরাচারকে পতন করেছে, সেটা বাদ দেয়া যাবে না।
সবাইকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এ আগস্ট মাসে আমাদের শপথ নিতে হবে যে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা না করা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। এ আন্দোলনের সমাপ্তি হবে না। কারণ জবাবদিহিমূলক সরকার মানুষের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকে। মানুষের কথা শুনতে বাধ্য। দেশ-বিদেশে গ্রহণযোগ্যতা পায়। আইন মতো চলে। বিশ্বের সমর্থন পায়। আগামীতে গণমুখী রাজনৈতিক ব্যবস্থা যদি প্রতিষ্ঠা করতে হয় তাহলে নির্বাচিত সরকার অবশ্যই প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন ফারুক রহমান, মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল খায়ের, কারী আবু তাহের, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও’ আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।



