বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আবারো সেই এক মাত্রিক একটি দেশ গড়ার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। এই ষড়যন্ত্রের জন্য তো দীর্ঘ ১৬ বছর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার লড়াই করেনি। এজন্য গোটা দেশকে সংগঠিত করেননি বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আজ শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান ও ফ্যাসিবাদ পতনের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শহীদ ও আহতদের স্মরণে ঢাকা কলেজের সাবেক ছাত্রবৃন্দ আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘আজকে আমরা যেখানেই যাই শুনি, একটি সংগঠনের লোক সেখানে বসে আছে। ওইখানে তারা তাদের সংগঠনের কাজ করছে।’
বিএনপি’র এই সিনিয়র নেতা বলেন, আমি এ কথাও শুনেছি যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যিনি ডিজি, তিনি তার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বলেছেন যে তোমরা রুকন না হলে চাকরি থাকবে না। এজন্য কি মুগ্ধ, আবু সাঈদ, ওয়াসিম ফ্যাসিবাদের গুলিতে জীবন দিয়েছে? নিজের শার্টের বোতাম খুলে দিয়ে পুলিশের গুলি বরণ করে নিয়েছে, এই গণতন্ত্রের জন্য? একটি রাজনৈতিক চেতনার রঙে আমাদের প্রশাসন থাকবে! শেখ হাসিনা যে চেতনা তৈরি করেছিলেন, সেই পাতানো চেতনার জন্যই কি এত রক্তপাত? এত হানাহানি? শেখ হাসিনা যেমন তার অপশাসনের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলেই বলতেন, একে ধরো, এদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে দাও। আবার নতুন করে আমরা দেখছি অন্য চেতনা ধর্মের নামে যে রুকন না হলে চাকরি করতে পারবে না।
রিজভী বলেন, ‘আমাদের অনেকেই উপদেষ্টার পদ পেয়েছেন অনেকেই ভালো আছেন। তাহলে কি আবার নতুন করে নতুন আঙ্গিকে শেখ হাসিনার যে অপশাসন, দুঃশাসন এবং চুরি, ডাকাতি, সন্ত্রাস, টাকা লুট, চাঁদাবাজি, ভর্তি বাণিজ্য, চাকরি বাণিজ্যের পুনরাবৃত্তি মানুষ দেখতে চায়? এই জন্য কি প্রায় দেড় হাজারের মতো শিশু-কিশোর তরুণ শ্রমিকরা রিক্সাওয়ালারা জীবন দিয়েছে? এই উপলব্ধি তো সবার হওয়া উচিত।
বিএনপি’র এই মুখপাত্র বলেন, এখনো তো নির্বাচন হয়নি। কে ক্ষমতায় যাবে, জনগণ কাকে ভোট দিবে- এটা তো এখনো নির্দিষ্ট হয়নি। তাহলে এই কথাগুলো এখনই কেন আসছে? এগুলো কেন আমাদের শুনতে হচ্ছে? অনেক সরকারি দফতর থেকে অনেকেই আসছে তারা বলছেন আমরা কি করব ভাই? আমরা যদি ওই দলের সদস্য, রুকন না হই তো চাকরি করতে পারব না। শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেও তার ভূত, তার আত্মারা আবার নতুন করে নতুন কায়দায়, নতুন চেতনায় আবারো ভর করেছে। এটার জন্য তো এই ছেলেরা জীবন দেয়নি।
রিজভী আরো বলেন, আমরা সেই গণতন্ত্র চেয়েছি, যে গণতন্ত্রে এই দেশের ভোটাররা ভোট দিয়ে যাকে ইচ্ছা তাকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসাবে। এজন্যই আমাদের লড়াই, এজন্যই আমাদের এত সংগ্রাম, এত ত্যাগ। এই জন্যই স্কুল-কলেজের ছেলেরা এত রক্ত দিয়েছে, নিজেদের জীবন দিয়েছে। এখানে এক চেতনাধারী বিদায় নিয়ে আরেক চেতনাধারী ক্ষমতার মধ্যে বসবে, এটা তো জনগণ প্রত্যাশা করে না। বড় বড় ইউনিভার্সিটিতে সেই চেতনাধারীরা। তাদের লোক হতে হবে। তাদের লোক ছাড়া কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট হবে না, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে পারবে না, কোনো চাকরি হবে না।



