নির্বাচন কমিশন এখনো জাতীয় পার্টির সাথে বিমাতা সুলভ আচরণ করছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৮টায় রংপুর মহানগরীর নিজ বাসভবন স্কাই ভিউতে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের সবাই যাচ্ছে। নানা বিষয়ে সমস্যাগুলো নিয়ে আমরা নির্বাচন কমিশনে কথা বলতে চাই। সবাইকে ওনারা সময় দিচ্ছেন। আমাদেরকে কোনো সময় দিচ্ছেন না। নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত আমাদের সাথে বিমাতা সুলভ আচরণ করছেন। আমরা এখনো দেখা করার সুযোগ পাইনি।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জি এম কাদের বলেন, ‘আমরা এখন নমিনেশন সাবমিট করছি। সাবমিট করার পরে কতগুলো বৈধ হয় এবং কি পজিশন হয়, এটা আমরা দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ চিন্তা করব। জোটে যেতেও পারি, নাও যেতে পারি। আমরা মনে করি, এখন পর্যন্ত জোটে যাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। আমরা তো কারো সাথে আন্ডারস্ট্যান্ডিং করতে পারি। যেমন: কোনো জায়গায় কারো স্টং পয়েন্ট আছে, আমরা হেল্প করলাম এবং আমাদের স্ট্রং পয়েন্ট আছে, তারা হেল্প করল। এ ধরনের হয়তো আন্ডারস্ট্যান্ডিং হতে পারে।’
নির্বাচন কমিশনের মনোনয়নপত্রের বিভিন্ন ত্রুটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি আশঙ্কা করছি এটা সত্য নাও হতে পারে, এবার নির্বাচন কমিশন থেকে যে মনোনয়নপত্র করা হয়েছে, সেটা অনেক জটিল। যা এটা আমি আগে দেখিনি। আমি তো পাঁচটা নির্বাচন করেছি। এখানে এমন কতগুলো বিষয় দেয়া হয়েছে মানুষ অল্পতেই ভুল করতে বাধ্য হবে। সে হিসেবে নির্বাচন কমিশন যেকোনো সময় যে কাউকে ডিসকোয়ালিফাই ডিক্লেয়ার করতে পারে। নমিনেশন বাতিল করতে পারে। আমরা আশঙ্কা করছি যে, আমরা এখনো লেবেল প্লেয়িং ফিল পাচ্ছি না। বিভিন্ন জায়গা থেকে বাধা পাচ্ছি। এ পত্রের মাধ্যমে আমাদের প্রচুর ভালো ভালো প্রার্থীকে বাদ দেয়া হতে পারে কি-না, এটা নিয়ে আমরা আশঙ্কা করছি।’
তিনি আর বলেন, ‘সব মিলিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ ঠিক হচ্ছে না। নির্বাচন হওয়ার পরে দু’টো জিনিস আমরা খেয়াল করব। একটা এই যে নির্বাচন একতরফাভাবে নির্বাচন করার চেষ্টা করছে। এ দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে না। ফলে সামাজিক অর্থনৈতিক থেকে দেশ উদ্ধার পারবে না। আরেকটা হলো নির্বাচনটা সঠিকভাবে না হলে এটার রেশে সারাদেশের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এটা একটা মনগড়া কথা হতে পারে, আবার নাও হতে পারে।’
আওয়ামী লীগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের লোক যারা, তারা হলো আওয়ামী লীগের মেম্বার। তারা হলো একটা সমাজের মানুষ। তারা আমাদের কারো ভাই, কারো বোন, কারো আত্মীয়-স্বজন। তাদের একটা অন্য পরিচয় থাকবে, তারা দেশের নাগরিক। কাজেই বাংলাদেশের থেকে একেবারে তাদের কোনো চিহ্ন থাকবে না, এ ধরনের তো কোনো রাজনীতি হতে পারে না। যদি আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়, তাহলে অটোমেটিক তাদের দলে আর কোনো লোক থাকে না। আমার জানামতে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় নাই। তাদের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। কাজেই তাদের দল স্থগিত আছে। বেআইনি ঘোষিত দল এটাও কিন্তু মনোনয়নপত্রের মধ্যে দেয়া হয়েছে। তাদের সাথে যোগাযোগ করলেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এগুলো অদ্ভুত, আমার কাছে ক্রোশ মনে হয়েছে।’
সরকার ও নির্বাচন কমিশন আওয়ামী ফোবিয়াতে ভুগছে দাবি করে জিএম কাদের বলেন, ‘বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশন আওয়ামী ফোবিয়াতে ভুগছেন। তারা তো এ দেশের নাগরিক এবং এ দেশেই থাকবেন। দেশের রাজনীতি করবে, সবকিছুই করবে। আপনি আওয়ামী লীগ করতে না দিলে তারা অন্য দল করবে। তারা যে আমাদেরকেই ভোট দেবে এমন নাও হতে পারে। অনেকেই আবার ভোট দিতে পারে। আমার জানা মতে, আওয়ামী লীগের ভোট নেয়ার জন্য জামায়াত ও বিএনপি চেষ্টা করছে। তাদের ভোট যদি আমাদেরকে দেয়, আমরা চেষ্টা করি বা না করি আমাদের অপরাধ কি? এটাই হলো বৈষম্য।’
এ সময় দলটির কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম ইয়াসির ও আজমল হোসেন লেবু, যুগ্ম মহাসচিব হাজী আব্দুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক হাসানুজ্জামান নাজিম ও লোকমান হোসেনসহ কেন্দ্রীয় স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, তিনদিনের রংপুর সফরে এসে মুন্সিপাড়ায় বাবা-মায়ের কবরস্থান জিয়ারত শেষে দলটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদের কবর জিয়ারত করেন তিনি। সোমবার দুপুর ৩টায় তিনি রংপুর-৩ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেবেন।



