সংসদে আলোচনা উঠেছে, দেশের সবচেয়ে বড় মাদকের চালানগুলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়ির আশপাশ দিয়েই আসে। এই মাদক আমদানি বন্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী সেলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, মাদক নির্মূলে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সরকার ও বিরোধী দলসহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
রোববার (২৮ জুন) সকালে আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় জামায়াত ঢাকা মহানগর উত্তরের চার দিনব্যাপী মাদকবিরোধী গণসচেতনতামূলক কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সেলিম উদ্দিন বলেন, মাদকাসক্তদের ঘৃণা নয়, বরং তাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। একজন মাদকাসক্তকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে খেলাধুলার মাঠ ও সুস্থ বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে, যাতে তরুণরা ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারে। পাশাপাশি বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে রিমোট জবের সুযোগ সৃষ্টির উদ্যোগ নেয়ার কথাও তুলে ধরেন।
সেলিম উদ্দিন বলেন, যুবসমাজকে কর্মমুখী ও ব্যস্ত রাখার মাধ্যমে মাদকাসক্তি থেকে দূরে রাখা সম্ভব। একটি মানবিক, নিরাপদ ও শান্তির নগরী গড়তে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি আরো বলেন, মাদকাসক্তির বিস্তারের পেছনে ব্যক্তি, পরিবার ও রাষ্ট্রের কিছু না কিছু ব্যর্থতা রয়েছে। তাই একটি দায়িত্বশীল সমাজ প্রতিষ্ঠায় ঘৃণা নয়, প্রয়োজন স্নেহ, সচেতনতা ও সহযোগিতার হাত।
তিনি বলেন, সুন্দর, সুস্থ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে জামায়াতে ইসলামী ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকা যতক্ষণ মাদকমুক্ত না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত জামায়াতের এই আন্দোলন চলমান থাকবে।
অনুষ্ঠান শেষে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপস্থিত মানুষের মাঝে মাদকবিরোধী লিফলেট ও বিশেষ সচেতনতামূলক বাক্স বিতরণ করেন মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
এ মসয় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের মজলিসে শূরা সদস্য মশিউর রহমান, যুব বিভাগের সেক্রেটারি ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ প্রমুখ।



