বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে গণতন্ত্রকামী, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাকারী শক্তিকেই নির্বাচিত করবে। জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত হলে সঠিক প্রতিফলন অবশ্যই ঘটবে।
আজ বুধবার গুলশানে একটি হোটেলে রিপোর্টাস ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির (আরএফইডি) সদস্যদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রাক্কালে নির্বাচন কমিশনে দায়িত্বরত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেন রিজভী বলেন, এই মুহূর্তে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে রাজনৈতিক সংগ্রাম ও আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে সাংবাদিকরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছেন, আর আসন্ন নির্বাচনেও সেই দায়িত্ব আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনের পেছনে রয়েছে একটি রক্তঝরা আন্দোলনের সুদীর্ঘ ইতিহাস। গত ১৬-১৭ বছর ধরে দেশের ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেননি, ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেননি। এক সময় ভোটের দিন ঘুম থেকে উঠে উৎসবের আমেজে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার যে ঐতিহ্য বাংলাদেশে ছিল, তা ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিল। নির্বাচন মানেই ছিল উৎসব, সকালবেলায় মা-বোনসহ সব বয়সের মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতেন। সেই ঐতিহ্যকে ম্লান করে দেয়া হয়েছিল।
রিজভী বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলে নির্বাচন মানেই ভয়াবহ কেন্দ্র দখল, ভোট লুট এবং রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে ব্যবহার করে বিরোধী দলীয় ভোটার ও প্রার্থীদের হেনস্তা করা হয়েছে। গ্রামে গ্রামে মাইকিং করে বলা হয়েছে, নৌকা মার্কায় ভোট না দিলে ভোটকেন্দ্রে না যেতে- এসব ঘটনার প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে।
তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি থেকে রক্তঝরা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের পতনের পর মানুষের মনে আবার অবাধ, সুষ্ঠু ও ইনক্লুসিভ নির্বাচনের আশা জেগেছে। ভোটাররা ভীতিহীনভাবে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন, এই বিশ্বাস আবার ফিরে আসছে। এই আশা পূরণে গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সাংবাদিকদেরও দায়িত্ব রয়েছে।



