উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেয়া অসাধু সিন্ডিকেট ও দালাল চক্র দমনে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে ফরেন অ্যাডমিশন অ্যান্ড ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট কনসালট্যান্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এফএসিডি-সিএবি) আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ১৪তম আন্তর্জাতিক শিক্ষা মেলা ২০২৬-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা আপনাদের বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন যে, এখানে অনেক অসাধু চক্র থাকে বা দালাল চক্র থাকে যারা আমাদের ছেলেমেয়েদের এডভান্টেজ নেন এবং অত্যন্ত চড়া মূল্য দিয়ে তাদেরকে বিদেশে যেতে হয়। সেই জায়গাটায় অবশ্যই সরকার সচেতন আছে, সরকার কাজ করছে এবং আপনারা যদি তথ্যগুলো দিয়ে আমাদেরকে সাহায্য করেন কারণ আমাদের প্রায়রিটি, কারণ আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই প্রথমবারের মতো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটা মাইগ্রেশন উইং খোলা হয়েছে।
‘মাইগ্রেশন সোল রেসপন্সিবিলিটি হচ্ছে যে আমাদের দেশ বাংলাদেশীদের সকল প্রকার মাইগ্রেশনের প্রবলেমগুলো অ্যাড্রেস করা। আপনারা যদি আমাদেরকে এই তথ্যগুলা দিয়ে সাহায্য করেন, কারণ আমরা যৌথভাবে কোলাবোরেটলি আমাদের ইউনাইটেডলি কাজ করতে হবে এই দালাল চক্রগুলোকে আইনের আওতায় আনতে এবং আমাদের ইউনাইটেডলি কাজ করতে হবে এই যারা অসাধুভাবে আমাদের ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে।
‘তো সেই কাজটা কিন্তু আপনারাও সরকারকে তথ্যগুলো দিয়ে সহযোগিতা করতে পারেন। আমি আপনাদেরকে আশ্বস্ত করতে পারি যে আপনারা যদি সঠিক তথ্য দেন এবং আমরা যদি সে তথ্য যদি প্রমাণিত হয় তাহলে অবশ্যই সরকার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।’
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরো স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে এবং বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের উন্নত সেবা দিতে এফএসিডি-সিএবি-কে সহযোগিতা করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রস্তুত রয়েছে।
সমস্যা সমাধান ও দাবি পূরণের লক্ষ্যে বিষয়গুলো যাতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর করা যায় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি শিক্ষা, অর্থ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে কাজ করতে পারে—সেজন্য এফএসিডি-সিএবি-কে তাদের দাবি ও সমস্যাগুলো লিখিতভাবে জমা দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও অভিজ্ঞতা অর্জন শেষে শিক্ষার্থীরা যাতে দেশে ফিরে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে, সেজন্য বাংলাদেশে একটি নিরাপদ ও বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ তৈরির গুরুত্বের ওপর জোর দেন শামা ওবায়েদ।
তিনি বলেন, সরকার চায় শিক্ষার্থীরা বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করুক এবং অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশে ফিরে উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করুক। এতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।
শিক্ষাকে কূটনীতির একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার উল্লেখ করে তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশের মধ্যে শিক্ষাগত ও গবেষণা অংশীদারত্বকে উৎসাহিত করা অব্যাহত রাখবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের মিশনগুলো আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংযোগ স্থাপন, একাডেমিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের বৈধ স্বার্থ ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সাহায্য করতে পারে।
২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের জাতীয় বাজেটের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সর্বশেষ বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছে।
শিক্ষা পরামর্শক, আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের এক প্ল্যাটফর্মে এনে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এই ফ্ল্যাগশিপ আন্তর্জাতিক শিক্ষা মেলা শুরু হয়।
চলতি বছর এই মেলায় বিশ্বের প্রায় ৩০০টি বিশ্বমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরামর্শ সেবা দেয়ার জন্য ৩০টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।
মেলায় আগত দর্শনার্থীরা বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের সাথে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন এবং বৃত্তি, আর্থিক সহায়তা, টিউশন ফি, ভিসা প্রসেসিং ও ক্যারিয়ার পরিকল্পনা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পাচ্ছেন। ইউএনবি



