গণমাধ্যমকে ইসি সচিব

দলের বাইরে ভোট ৭০ অনুচ্ছেদ পরিপন্থী কি-না সেটা রাজনৈতিক প্রশ্ন

৩৪৯ জন ভোটার তিনটি বাক্সে ব্যালেট ফেলবেন

বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০২৬-এর ভোট গ্রহণের সার্বিক বিষয় চূড়ান্ত করা হয়। আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বেলা ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে এই ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

বিশেষ সংবাদদাতা
ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ
ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ |ফাইল ছবি

আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা নিজ দলের প্রার্থীর বাইরে অন্য কাউকে ভোট দিলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যপদ থাকবে কি-না কিংবা এটি কীভাবে কার্যকর হবে-এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট জানান, দলের বাইরে ভোট দেয়ার বিষয় বা এতে ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর হওয়া বা না-হওয়া সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রশ্ন। এটি রাজনৈতিক নেতাদের বিষয়। যা নির্বাচনের কারিগরি ও আইনি পরিচালনা প্রক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত নয়।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে দফতরের সামনে জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক যৌথ প্রস্তুতিমূলক বৈঠক-পরবর্তী ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ৩৪৯ জন। তিনটি বাক্স থাকবে। ২০ সদস্যের নির্বাচনী টিম কাজ করবে।

বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০২৬-এর ভোট গ্রহণের সার্বিক বিষয় চূড়ান্ত করা হয়। আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বেলা ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে এই ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ সদস্যরা তাদের নিজ নিজ আসনে অবস্থান করবেন। নির্বাচন কমিশনের সহায়ক কর্মকর্তারা তাদের কাছে সরাসরি ব্যালট পেপার পৌঁছে দেবেন। সংসদ সদস্যদের সুবিধার জন্য কক্ষে তিনটি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স রাখা হবে।

সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয় যে, নির্বাচনে যদি কোনো রাজনৈতিক দল, যেমন জামায়াতে ইসলামী বা বিএনপি পৃথক প্রার্থী মনোনীত করে এবং কোনো সংসদ সদস্য নিজ দলের মনোনীত প্রার্থীর বাইরে অন্য কোনো প্রার্থীকে বা বিরোধী বলয়ের প্রার্থীকে ভোট দেন, তবে সেক্ষেত্রে ভোটারদের প্রাপ্ত ভোট হিসাবে গণ্য করা হবে কি-না এবং সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাদের আসন বাতিল বা অন্যান্য আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে কি-না? এর জবাবে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বা ক্রসিং ভোটিং সংক্রান্ত জটিলতা সম্পূর্ণই রাজনৈতিক নেতাদের বিষয়। এ বিষয়গুলো রাজনৈতিক আলোচনার আওতাভুক্ত এবং নির্বাচনের কারিগরি ও আইনি পরিচালনা পদ্ধতির সাথে এর কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। কমিশনের মূল লক্ষ্য একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত নিয়মে নির্বাচন সম্পন্ন করা।’

উল্লেখ্য, রাজনৈতিক দল থেকে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোটদানের কারণে আসন শূন্য হওয়ার বিষয়ে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হয়ে কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে তিনি যদি ওই দল থেকে পদত্যাগ করেন, অথবা সংসদে ওই দলের বিপক্ষে ভোট দেন, তাহলে সংসদে তার আসন শূন্য হবে। তবে তিনি সে কারণে পরবর্তী কোনো নির্বাচনে সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য হবেন না।

বৈঠকের বিস্তারিত সিদ্ধান্ত তুলে ধরে ইসি সচিব জানান, ‘আগামী ২০ আগস্ট বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে বিরতিহীনভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। কোনো সংসদ সদস্য যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পৌঁছাতে দেরি করেন, সেই সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ রাখা হয়েছে। ভোটদান প্রক্রিয়ায় সংসদ সদস্যরা অধিবেশন কক্ষে নিজ নিজ আসনেই অবস্থান করবেন। নির্বাচন কমিশনের নিযুক্ত সহকারী কর্মকর্তারা তাদের কাছে সরাসরি সিকিউরিটি বৈশিষ্ট্য সংবলিত ব্যালট পেপার পৌঁছে দেবেন।’

ব্যালট পেপারের গঠন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আখতার আহমেদ বলেন, ‘প্রতিটি ব্যালট পেপারে দুটি অংশ থাকবে—মুড়ি অংশ ও মূল ব্যালট। মুড়ির অংশে প্রার্থীর ক্রমিক নম্বর, ভোটারের নাম, বিভক্তি নম্বর ও স্বাক্ষরের ঘর নির্ধারিত থাকবে। ডানদিকের মূল ব্যালটে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম থাকবে এবং পাশে থাকা ফাঁকা স্থানে ভোটার সংসদ সদস্য তার পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন। ভোটার সংসদ সদস্যদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে কক্ষে তিনটি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স স্থাপন করা হবে, যার যেকোনো একটিতে তারা ভোট কাস্ট করতে পারবেন।’

ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণার আইনি কাঠামোর বিষয়ে সচিব জানান, ‘বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ সমাপ্তির পরপরই অধিবেশন কক্ষের ভেতরে রাখা ব্যালট বাক্সগুলোর সামনেই সরাসরি ভোট গণনা শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত চার বা পাঁচজনের গঠিত একটি ব্যালট গণক দল ব্যালট পেপার শর্টআউট করে গণনা কার্যক্রম শেষ করবে। মোট ৩৪৯টি ব্যালটের মধ্যে কতটি বৈধ বা বাতিল হয়েছে এবং কোন প্রার্থী কত ভোট পেয়েছেন, তা নির্বাচনকর্তা হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) অধিবেশন কক্ষেই সরাসরি সবার সামনে ঘোষণা করবেন। পরবর্তী সময়ে কমিশন সচিবালয়ে এসে অফিসিয়ালি ফলাফলের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে।’

সংবাদকর্মীদের তথ্য সংগ্রহের বিষয়টি নিশ্চিত করে ইসি সচিব জানান, অধিবেশন কক্ষ থেকে ভোটের কার্যক্রমের সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ টেলিকাস্ট) করার সুবিধা থাকবে এবং সাংবাদিকদের বসার জন্য নির্ধারিত স্থান রাখা হবে।

নির্বাচন পরিচালনায় কমিশন সচিবালয় থেকে ২০ জন সহায়ক কর্মকর্তার নাম প্রেরণের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কমিশনের পক্ষ থেকে কর্মকর্তাদের বিশেষ আইডি কার্ড ইস্যু করা হবে। এছাড়া দীর্ঘ বিরতির পর, বিশেষ করে ১৯৯১ সালের পর সংসদীয় পদ্ধতির এই ঐতিহাসিক নির্বাচন দেখার সুযোগ হিসেবে কমিশনারগণও পরিদর্শন কর্মকর্তা হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারেন।’