ফল সংগ্রহ-পরবর্তী ক্ষতি কমাতে জোরালো আঞ্চলিক পদক্ষেপের আহ্বান সার্কের

‘অংশীজনরা তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময়, বিদ্যমান প্রযুক্তিগুলো যাচাই এবং দক্ষিণ এশিয়ায় ফলের মূল্য শৃঙ্খল শক্তিশালীকরণ ও খাদ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধির ব্যবহারিক সমাধানগুলো চিহ্নিত করেন।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
তিন দিনব্যাপী এসএসি-এর এক ভার্চুয়াল আঞ্চলিক পরামর্শ সভা
তিন দিনব্যাপী এসএসি-এর এক ভার্চুয়াল আঞ্চলিক পরামর্শ সভা |সংগৃহীত

দক্ষিণ এশিয়ায় ফল সংগ্রহ-পরবর্তী ক্ষতি কমাতে আঞ্চলিক সহযোগিতা, উদ্ভাবন এবং নীতিগত সহায়তার জরুরি প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে সার্ক কৃষি কেন্দ্র (এসএসি)।

সোমবার (৩ আগস্ট) থেকে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এসএসি-এর এক ভার্চুয়াল আঞ্চলিক পরামর্শ সভায় এ বিষয়ে জোরালো আঞ্চলিক পদক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়।

‘রিডাকশন অব পোস্ট-হারভেস্ট লসেস অব ফ্রুটস ইন সার্ক মেম্বার স্টেটস’ শীর্ষক এই কর্মসূচিতে সার্কভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এতে বিশেষজ্ঞ ও নীতি-নির্ধারকরা এ অঞ্চলে ফল সংগ্রহ-পরবর্তী ক্ষতির বর্তমান পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অংশীজনরা তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময়, বিদ্যমান প্রযুক্তিগুলো যাচাই এবং দক্ষিণ এশিয়ায় ফলের মূল্য শৃঙ্খল শক্তিশালীকরণ ও খাদ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধির ব্যবহারিক সমাধানগুলো চিহ্নিত করেন।

সার্ক কৃষি কেন্দ্রের (এসএসি) পরিচালক ড. মো: হারুনূর রশীদ তার স্বাগত বক্তব্যে ফল সংগ্রহ-পরবর্তী ক্ষতির অর্থনৈতিক ও পুষ্টিগত প্রভাবের কথা তুলে ধরেন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, কৃষকের আয় বাড়াতে, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং টেকসই কৃষি উন্নয়ন অর্জনে অপচয় কমানো অপরিহার্য। সাধারণ চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় জ্ঞান বিনিময় ও প্রযুক্তি গ্রহণের মাধ্যমে সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে আরো শক্তিশালী সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।

সভার সারসংক্ষেপ তুলে ধরে এসএসি-এর সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট (ক্রপস) ড. সিকান্দার খান তানভীর পরামর্শ সভার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগুলো রূপরেখা আকারে তুলে ধরেন। তিনি ফল সংগ্রহ থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে একটি আঞ্চলিক কর্মকাঠামো তৈরির গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় ভারতের শের-ই-কাশ্মির ইউনিভার্সিটি অব এগ্রিকালচারাল সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজির ফুড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের সিনিয়র বিজ্ঞানী ড. ইমতিয়াজ আহমদ জারগার সার্ক সদস্য দেশগুলোর ফল সংগ্রহ-পরবর্তী ক্ষতির বর্তমান চিত্র তুলে ধরেন।

তিনি উল্লেখ করেন, অপর্যাপ্ত সংরক্ষণাগার, পরিবহন এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধার অভাবে বিপুল পরিমাণ ফল নষ্ট হয়। ক্ষতি কমাতে এবং কৃষকদের বাজারের সুযোগ বাড়াতে তিনি আধুনিক সংগ্রহ-পরবর্তী প্রযুক্তি, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উন্নত সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার পক্ষে মত দেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সার্ক সচিবালয়ের পরিচালক (এআরডি ও এসডিএফ) তানভীর আহমদ তরফদার কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থায় আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতে সচিবালয়ের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব এ কে এম শহীদুল করিম খাদ্য অপচয় রোধ এবং কৃষি সক্ষমতা জোরদারে যৌথ আঞ্চলিক প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে খাদ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধি, কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের জন্য সংগ্রহ-পরবর্তী ক্ষতি কমানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ পরামর্শ সভা আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। এতে সার্ক সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে নীতিগত সুপারিশ, উদ্ভাবনী প্রযুক্তি এবং ভবিষ্যৎ যৌথ উদ্যোগের ওপর আলোকপাত করা হবে। বাসস