প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ড টেনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘পরিবর্তনের জন্য তারেক রহমান ইতোমধ্যে কিছু দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সেই পরিবর্তনগুলো যদি আমরা আনতে পারি, অনেক দূরে এগিয়ে যেতে সক্ষম হব। তিনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৮ ঘণ্টাই কাজ করেন। তিনি সারাক্ষণ ভাবেন যে, কী করে পরিবর্তন নিয়ে আসা যাবে। পরিবর্তন আমাদের আনতেই হবে।’
বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে বিতর্ক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে এ কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বেশ বড় রকমের একটা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে, আমাদের ছেলেদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশকে নতুন করে সাজাবার একটা সুযোগ পেয়েছি। কথাটা বারবার কেন বলি যে, ‘সুযোগ পেয়েছি’? আজকে ডিবেটিং ক্লাবে এসে, তাদের পারফরম্যান্স দেখে আমার মনে হয়েছে যে, আমাদের এখনো অনেক অনেক পটেনশিয়ালস আছে, সুযোগ আছে। সেই সুযোগ যদি আমরা কাজে লাগাতে পারি, তাহলে নিশ্চয়ই আমরা মাথা তুলে দাঁড়াতে পারব। আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ অনেক। যে বিষয় ছিল বিতর্কের—জলবায়ুর যে সমস্যা। এ সমস্যা তো বড় সমস্যাই, তবে তার চেয়েও বড় সমস্যা আমার কাছে মনে হয় যে, আমরা বাংলাদেশের মানুষেরা কি নিজেদেরকে ঠিক সঠিকভাবে উপলব্ধি করি? হয়তোবা সবসময় উপলব্ধি করি না।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে যে সমস্যাগুলো আছে, এগুলোকে মোকাবেলা করতে সবসময় যে জিনিসটা দরকার, আমার কাছে মনে হয় যে একটা অত্যন্ত শক্ত নেতৃত্ব প্রয়োজন। যে নেতৃত্ব আমাদের সঠিক পথে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করবে। আমরা বারবার বঞ্চিত হয়েছি, বারবার ধোঁকা খেয়েছি। এবার আমাদের সামনে একটা সুযোগ এসেছে, এইজন্যই আমি কথাগুলো বলছি।’
দেশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশটাকে এখন নতুন করে গড়ে তুলতে হলে একটা পরিকল্পনা দরকার। সেই পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কাজ শুরু করেছেন। এত বড় বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে যে, সেই চ্যালেঞ্জগুলোকে মোকাবিলা করে রাতারাতি সবকিছু হয়ে যাবে—এটা মনে করার কোনো কারণ নেই। কিন্তু একই সাথে আমরা আশাবাদী হয়ে উঠেছি। আশাবাদী হয়েছি এইজন্যে যে, আমরা দেখতে পাচ্ছি আমাদের তরুণরা তাদের ক্ষমতা দিয়ে, তাদের দেশের প্রতি ভালোবাসা দিয়ে একটা অসম্ভবকে সম্ভব করেছে। একটা ফ্যাসিবাদকে হটিয়ে দিয়ে একটা গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে, পুনরায় একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ এনে দিয়েছে। এই জিনিসটা আমাদের জন্য বিরাট পাওয়া বলে মনে করি। সবচেয়ে বড় আশার কথা হচ্ছে—আমাদের ছেলেরা তাদের বুকের মধ্যে কিন্তু বাংলাদেশকে ধারণ করেন।’



