ফরহাদ মজহারের বক্তব্যের প্রতিবাদ জামায়াতের

‘দেশের প্রথিতযশা কলামিস্ট, কবি ও রাষ্ট্রচিন্তক ফরহাদ মজহার সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে যে মন্তব্য করেছেন তা অগ্রহণযোগ্য, বিভ্রান্তিকর, অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত। আমি ফরহাদ মজহারের মন্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ভবিষ্যতে এরূপ মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। একইসাথে গঠনমূলক সমালোচনা প্রত্যাশা করছি।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
কবি ফরহাদ মজহার ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর লোগো (ইনসেটে)
কবি ফরহাদ মজহার ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর লোগো (ইনসেটে) |সংগৃহীত

সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে ‘যতদিন জামায়াত থাকবে, ততদিন আওয়ামী লীগ থাকবে’ বলে কবি ফরহাদ মজহারের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

সোমবার (৩ আগস্ট) জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, দেশের প্রথিতযশা কলামিস্ট, কবি ও রাষ্ট্রচিন্তক ফরহাদ মজহার সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে যে মন্তব্য করেছেন তা অগ্রহণযোগ্য, বিভ্রান্তিকর, অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত। আমি ফরহাদ মজহারের মন্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ভবিষ্যতে এরূপ মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। একইসাথে গঠনমূলক সমালোচনা প্রত্যাশা করছি।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সাড়ে ১৬ বছর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ দেশবাসীর ওপর চরম জুলুম, নির্যাতন, গুম, খুন, হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে এবং লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছিল; যার সাক্ষী দেশের মানুষ, ভুক্তভোগী বিরোধীমতের রাজনৈতিক নেতারা। চরম বৈরি পরিবেশে জনগণের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন করেছে। যার ফলশ্রুতিতে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের শাহাদতবরণ, হাজার হাজার নেতাকর্মী আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করা এবং জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন। চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ নতুন বাংলাদেশে রাজনীতি করবে- এমন প্রত্যাশা, মতামত বা বক্তব্য জনগণ প্রত্যাশা করে না, প্রত্যাখ্যান করে। সরকারিভাবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে যারা বাংলাদেশে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিতে বয়ান তৈরি, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করবে, তারা ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে চিহ্নিত হবে।

তিনি আরো বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরেুদ্ধে চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে জামায়াত রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে ফ্যাসিবাদের পতনকে ত্বরান্বিত করেছিল। জামায়াতের মতো জুলাই অভ্যুত্থানের শক্তিকে যদি কেউ আওয়ামী লীগের সাথে মেলানোর চেষ্টা করে, তাহলে জনগণ তাদের ফ্যাসিস্টদের দোসর কিংবা পুনর্বাসনকারী হিসেবে শনাক্ত করবে।

অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জুলাই চেতনাকে ধারণ করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হলে নতুন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের মতো ফ্যাসিস্ট, গণহত্যাকারী দলের রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে না বলে আমরা বিশ্বাস করি।