ডা. মাহমুদা মিতু

মেয়েরা বিসিএস ক্যাডার হলে মেয়র-চেয়ারম্যানও হতে পারবে

লাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আখতার ভাই, হাসনাত ভাই, নাহিদ ভাই, এরা কিন্তু দলমত নির্বিশেষে সবার। জুলাইকে যারা ধারণ করে, তাদের আলাদা একটা জায়গা আছে। যে অন্য একটা দলও করে, তারও নাহিদের প্রতি, আখতারের প্রতি একটা স্নেহ আছে, একটা মমতা আছে। কিন্তু আমরা মেয়েরা এখনো সেই রাজনীতির পথে যেতে পারিনি।’

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

Location :

Kushtia

জাতীয় নারী শক্তির সদস্যসচিব ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, ‘আপনারা ছেলে-মেয়েদের গ্র্যাজুয়েশন করাবেন ঠিকই, তবে চাকরির পাশাপাশি এই স্বপ্নটাও দেখান যে আপনার মেয়ে যেন এলাকার চেয়ারম্যান বা মেয়র হতে পারে। যার বিসিএস ক্যাডার হওয়ার যোগ্যতা রয়েছে, তার নিজ এলাকার নেতৃত্ব দেয়ার ও মেয়র হওয়ার সমান যোগ্যতা রয়েছে।’

রোববার (২৬ জুলাই) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) জাতীয় ছাত্রশক্তির আয়োজনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মাহমুদা মিতু বলেন, ‘এটা বলছি কারণ, আপনারা দেখবেন আমার প্রত্যেকটা কমেন্টের নিচে কী সব নোংরা ভাষা ব্যবহার করা হয়। এই যে একটা নোংরা সমাজ হয়ে উঠছে, এই নোংরামিটা আস্তে আস্তে আজকের মেয়েদের ওপরও পড়বে। এটা কিন্তু খুব সহজ বিষয় না। এখন মনে হচ্ছে যে অমুকে রাজনীতি করে, তাই অমুকে গালি দিচ্ছে। কিন্তু এরাই ভবিষ্যতে ধর্ষণ করবে। যারা নোংরা কথা বলে, ভবিষ্যতে এদের কারণে আমাদের বাচ্চারাই ভোগান্তিতে পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘রিয়া গুপ্ততো রাজনীতি করত না, নাইমা রাজনীতি করত না। কিন্তু ওদেরকে ঠিকই বারান্দায় গুলি খেতে হয়েছে। কেন হয়েছে? আমাদের সিস্টেমটাই এরকম ছিল যে, যে কেউ যেকোনো সময় রাষ্ট্রযন্ত্র দ্বারা গুলির শিকার হতে পারে। এই জায়গা থেকে আমাদের সচেতন হতে হবে, নতুন রাজনীতি নিয়ে ভাবতে হবে।’

জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আখতার ভাই, হাসনাত ভাই, নাহিদ ভাই, এরা কিন্তু দলমত নির্বিশেষে সবার। জুলাইকে যারা ধারণ করে, তাদের আলাদা একটা জায়গা আছে। যে অন্য একটা দলও করে, তারও নাহিদের প্রতি, আখতারের প্রতি একটা স্নেহ আছে, একটা মমতা আছে। কিন্তু আমরা মেয়েরা এখনো সেই রাজনীতির পথে যেতে পারিনি।’

নিজের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘আমি রাজনীতিতে এসেছি খুব অল্প সময়ে, যখন থেকে নাগরিক কমিটি হয়েছে তখন। আমার জীবনে কোনো রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা ছিল না। আমি যখন দেখেছি ইয়ামিনের লাশ ট্যাঙ্ক থেকে ফেলে দেয়া হচ্ছে, আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে লাশের পর লাশ, তখনই আমার ক্যারিয়ারের সাইড মোটামুটি রেখে এই দিকে এসেছি। এই দিকে আসার পর মনে হয়েছে যে, আমি তো একা হয়ে যাচ্ছি। আমার আরো অনেক বোনকে দরকার, অনেক বেশি মানুষ দরকার, যারা আসলে রাজনীতিই করবে।’

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারোয়ার তুষার, যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক জাহিদ আহসান।