কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ (এমপি) বলেছেন, ‘জুলাই সনদ নিয়ে কোনো চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র জনগণ মেনে নেবে না। হাজারো রক্তের বিনিময়ে অর্জিত জুলাই বিনষ্টের চেষ্টা জনগণ সফল হতে দেবে না।’
ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম বাংলাদেশ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি শাখার উদ্যোগে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিএমইউ-এর চিকিৎসকদের সম্মানে এক ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।
ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি বলেন, ‘সরকার দলীয় চিফ হুইপ যখন বলেন- তারেক রহমান ২০৩১ সাল নয় ২০৩৭ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী থাকবেন! তখন জনগণের কাছে পরিষ্কার বিএনপিও আওয়ামী লীগের পথে হাঁটছে।’
তিনি বিএনপিকে হুশিয়ারি করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের পথে হাঁটলে আওয়ামী লীগের মতোই পরিণতি হতে পারে।’
তাই আওয়ামী লীগের পথ ছেড়ে জনগণের দেখানো পথে হাঁটার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জনগণ জুলাই সনদের পক্ষে গণভোটে রায় দিয়েছে জনগণের সেই রায় মেনে নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, দায়িত্বশীল বিরোধীদল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী সরকারকে ততক্ষণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত যতক্ষণ সরকার দেশ ও জাতির স্বার্থে নিয়োজিত থাকবে কিন্তু সরকার দেশ ও জাতির বিপক্ষে গেলে জামায়াতে ইসলামী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির এ ব্লক মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম।
বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ (এমপি) এবং ডা. মুসলেহ উদ্দিন ফরিদ (এমপি)।
ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম বিএমইউ শাখার সভাপতি ডা: আতিয়ার রহমানের সভাপতিত্বে এবং ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম বিএমইউ শাখার সেক্রেটারি ডা: মো: শাহাদাত হোসেনের সঞ্চালনায় ইফতার মাহফিলে বাংলাদেশ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির সম্মানিত চিকিৎসকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, ‘রোজা হচ্ছে নিজেকে পরিশুদ্ধ করার অন্যতম একটি মাধ্যম। রোজা মানুষকে আল্লাহর প্রতি ভয় ও বিশ্বাস স্থাপনে ভূমিকা রাখে।’
তিনি আরো বলেন, ‘যারা আল্লাহকে ভয় করে তারা চাঁদাবাজি করতে পারে না, সন্ত্রাসী করতে পারে না, দুর্নীতি করে জনগণের সম্পদ বিদেশে পাচার করতে পারে না। আল্লাহভীরু নেতৃত্ব দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে দেশে সন্ত্রাস-চাঁদাবাজ-দুর্নীতিবাজ থাকবে না। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের জনগণ আল্লাহভীরু নেতৃত্বকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলেও অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা ও ডিপস্টেট (প্রশাসনে লুকিয়ে থাকা ফ্যাসিস্টের দোসর) যৌথভাবে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে জনগণের ভোট চুরি করে বিএনপিকে নির্বাচিত ঘোষণা করেছে। যার প্রমাণ নির্বাচনের পর সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানের স্বীকারোক্তি এবং সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রী বানানো।’
মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, ‘রোজা হচ্ছে তাকওয়া অর্জনের অন্যতম মাধ্যম। রোজা লোক দেখানোর জন্য নয় রোজা স্বয়ং আল্লাহর জন্য। রোজা মানুষকে নিষ্পাপ করে দেয়ার সুযোগ। আল্লাহকে ভয় করার বৈশিষ্ট্য অর্জন করাই রোজার উদ্দেশ্যে হাসিল করা। রোজার আগে দুর্নীতি-চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসী করলেও রোজার পরে যদি সেটি না করে তবেই রোজা পালনের স্বার্থকতা অর্জন হবে। কিন্তু কোনো ব্যক্তি যদি রোজা পালন করার পরও আগের মতোই দুর্নীতি-চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসী করে তবে ওই রোজা পালন অনর্থক।’
তিনি বলেন, ‘আল্লাহ রমজান মাসকে এতো মর্যাদা দিয়েছেন এই মাস কোরআন নাজিলের মাস। যেমনিভাবে কোরআন নাজিলের কারণে মাস মর্যাদাপূর্ণ হয় ঠিক তেমনিভাবে কোনো ব্যক্তি কোরআন নিজের মাঝে লালন ও ধারণ করলে সেই ব্যক্তিও আল্লাহর কাছে মর্যাদাবান হবেন। একইভাবে সমাজ যদি কোরআন ধারণ করে এবং রাষ্ট্র যদি কোরআন ধারণ করে তবে সমাজ ও রাষ্ট্র পৃথিবীর মধ্যে মর্যাদাশীল রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হবে। এজন্য কোরআনের বিধান কায়েম করা ব্যতিত ব্যক্তি জীবন, সমাজ কিংবা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় সাফল্য নাই। তাই কোরআনের সমাজ প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই।’



